বর্জ্যের পানিতে ভাসছে কুতুবপুরঃ নৌকায় চড়তে ব্যস্ত বিএনপির সেন্টু চেয়ারম্যান!

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ কুতুবপুরকে উ্ন্নয়নের জোয়ারে প্লাবিত করে এখন নৌকায় ভাসতে চাইছেন ১৭ বছরের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু।

এমনই মন্তব্য করছেন কুতুবপুরের বিএনপি-আওয়ামীলীগসহ সাধারন জনগন বলেছেন,পুরো কুতুবপুর এখন বর্জ্যের পানিতে তলিয়ে আছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছে জনগন আর নিজের আখের ঠিক রাখতে নৌকার চড়তে ব্যস্ত সেন্টু চেয়ারম্যান।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তার ঘনিষ্টজন বিএনপির নেতাকর্মীরাও। কেউ বলেছেন ব্যাপারটা এত সহজ নয় আবার কেউ বলেছেন সরাসরি নৌকায় উঠলে তার পক্ষে নির্বাচন করার জন্যে মাঠে সম্ভব হবে না তার সমর্থক বিএনপি নেতাকর্মীদের।

এলাকাবাসী জানান,এক সময় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় অসংখ্য মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত বিএনপির ডাকসাইটে নেতামনিরুল আলম সেন্টু নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে আওয়মীলীগের শাসনামলে এমপি কবরী ও বর্তমানে শামীম ওসমানকে বগলদাবা করে কুতুবপুরের চেয়ারম্যানের চেয়ার হাতিয়ে নেন তিনি।

এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সেন্টুকে। বিগত ৫ বছরে এলাকার উন্নয়নের চেয়ে আখের গোছানো আর ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষমহলকে সন্তুষ্ট রাখাই ছিল প্রাত্যাহিক কর্মসূচী। এর ফলে কুতুবপুরের উন্নয়নে শত শত কোটি টাকার বরাদ্দ হলেও ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান ফটকের সামনেই হয়ে গেছে বিশাল গর্তের জলাবদ্ধতা। সেই ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি পেরিয়েই এলাকাবাসীকে পরিষদে ঢুকতে হয় কোন সেবা নিতে।

এ ছাড়াও ৬নং ওয়ার্ডের বেশীর ভাগ সড়কই ভাঙ্গাচোরা এবং ময়লা বর্জ্যর নীচে তলিয়ে আছে। বিশেষ করে নয়ামাটির সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত বর্জ্যে তলিয়ে থাকলেও চেয়ারম্যান কিংবা স্থানীয় মেম্বার কারো নজরেই পড়ছে না। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

তাই প্রশ্ন উঠেছে, টানা ১৭ বছরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু এত উন্নয়ন করেও নিজের কার্যালয় ও কার্যালয়ের সামনের জলাবদ্ধতার নিরসন করতে পারেনি । বর্ষা মৌসুম ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদের সামনেসহ নয়ামাটি-নন্দলালপুর থেকে পিলকুনি সড়কে জলাবদ্ধতায় সারা বছরের জন্যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগনকে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি শিকার হচ্ছে কুতুবপুর ৮নং ওয়ার্ডের তক্কারমাঠ, শিয়াচর, পিলকুনি, নন্দলাপুর,পাগলা নয়ামাটি,৯নং ওয়ার্ডের লামাপাড়া,রামারবাগ,লালখা,পূর্ব শিয়াচর,কুতুবপুর নয়ামাটি,৭নং ওয়ার্ডের আলীগঞ্জ সহ ৫,৬ ওয়ার্ডের বেশ কিছু বেশ কিছু এলাকা।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে সবচেয়ে দূর্গন্ধ ইউনিয়ন হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে কুতুবপুর ইউনিয়ন।সিটি কর্পোরেশন সহ জেলার বিভিন্ন স্থানের ময়লা রাখার জায়গা উঠে উঠছে কুতুবপুর ইউনিয়ন। ফতুল্লা ষ্টেডিয়াম সংলগ্ন,জালকুড়ি,ভূইঘর সহ বেশ কিছু এলাকায়ই ফেলা হচ্ছে এই বিভিন্ন ময়লা ও আবর্জনা।

এছাড়া কুতুবপুর ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে আন্তর্জাতিক ষ্টেডিয়াম ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী ষ্টেডিয়াম। এত বছরেও সাংসদ সদস্য ও উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারেনি ষ্টেডিয়ামকে পানি থেকে মুক্ত করতে। বর্ষা মৌসুম ছাড়াই এই ষ্টেডিয়ামটি পুকুরে পরিণত হয়ে উঠেছে। যেখানে এক সময় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হতো।

এ সকল কারনে উন্নয়নে উদাসীন ১৭ বছরের চেয়ারম্যান মনিরুল ইলম সেন্টু নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আওয়ামীলীগের নৌকার চড়তে চেষ্টা করছেন এমনই ধারনা কুতুবপুর বাসীর। তবে সময়ই বলে দিতে পারে নৌকা এবং সেন্টুর সমন্বয় কতটুকু হবে।