আড়াইহাজারের মেঘনা থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি যাবে ঢাকায়

আড়াইহাজার(আজকের নারায়নগঞ্জ): আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়ে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী এলাকা থেকে গন্ধবপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে ঢাকায় প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে ।

বৃহস্পতিবার(৩০ সেপ্টেম্বর) আড়াইহাজারে বিশনন্দী এলাকায় ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগে গন্ধবপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, সায়দাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ (ফেইজ-৩) বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা নগরবাসী এবং শিল্প কলকারখানায় পানি সরবরাহে কোনো সমস্যা থাকবে না। ঢাকা শহরে বর্তমান ও আগামী দিনে পানির যে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে তা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মেঘনা নদীসহ বিভিন্ন নদী থেকে পানি ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে দূষণ মুক্ত করে নেওয়া হচ্ছে। ওয়াসার দায়িত্ব ঢাকা শহরের নাগরিকের বাসায় ওয়াটার রির্জাভে পানি পৌঁছানো এবং সেটি করতে প্রতিষ্ঠানটি সক্ষম হচ্ছে।’

পদ্মা-জশলদিয়া ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে ঢাকা শহরে যে পারিমাণ পানি আসার কথা সে অনুযায়ী সংযোগ লাইন না থাকার কারণে তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওই প্লান্টে উৎপাদিত সম্পূর্ণ পানি শহরে নিয়ে এসে মানুষের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। বিদেশ একটি সংস্থা এই সরবরাহ লাইনে অর্থ সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব করেছে। এটি না হলে সরকার নিজস্ব অর্থায়নেই পানির এই সংযোগ লাইন স্থাপন করবে।’

পদ্মা-জশলদিয়া প্রকল্পের ন্যায় গন্ধবপুর প্রকল্পেও সংযোগ লাইন ছাড়াই প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পে একই ঘটনা ঘটবে না। কারণ এখানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং সংযোগ লাইন তৈরির কাজ সমানতালে এগিয়ে চলছে।’

অনুষ্ঠানের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইনটেক পাম্পিং স্টেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে ঘুরে দেখেন। পরে বিআইডব্লিউটিএর একটি জাহাজযোগে মেঘনা নদীর দখল ও দূষণ রোধে গৃহীত কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এসময় তার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান,ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেন মারিন স্কিও, জার্মানির রাষ্ট্রদূত এসিম টোস্টার ও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি স্ট্রুপ পিটারসেন, এডিবি ও কেএফডব্লিউয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।