স্মরণে তুমি

[উৎসর্গ আমার মুর্শিদ নজরুল]
– শামসুল হুদা

ফুলে ফুলে আজ ছেয়েছে তোমার
সমাধির বেদিমূল।
হে কবি
হে দ্রোহের কবি,পূজিব চরণ রাতুল।

মানুষেরে ভালো বেসেছো তুমি
জাগায়েছো মনে বল।
হে কবি
হে সাম্যের কবি,নিভায়েছো কত অনল।

বাজাইয়া বাঁশি হাসিয়াছ হাসি
কন্ঠে তুলেছো সুর।
হে কবি
হে প্রেমের কবি,আমরা হয়েছি বিভোর।

রাধার মনের বেদনাকে তুমি
ফুটিয়ে তুলেছো গানে।
হে কবি
হে ভাবের কবি, গোপ গোপিনীরা জানে।

শ্যামার মাঝে দেখিয়াছো শ্যামের
ভুবন মোহিনী রুপ।
হে কবি
হে ধ্যানের কবি,তুমি ছিলে অভিরুপ।

নারীকে তুমি জাগিয়ে দিয়েছো
রণরঙিনী সাজে।
হে কবি
হে জাগরণের কবি,জাগিয়েছো রণ সাজে।

হাসিয়াছ তুমি হাসায়াছো তুমি
মানুষের অন্তর।
হে কবি
হে রসের কবি,ভুলাইয়া আপন পর।

মন্দির আর মসজিদে তুমি
করিয়াছো একাকার।
হে কবি
হে মানবতার কবি,তুমি কবি সবার।

আঘাতে আঘাতে ভাঙিয়াছ তুমি
লৌহ কঠিন কারা
হে কবি
হে বিদ্রোহী কবি,পরাধীন ছিলো যারা।

শুষ্ক মরুতে ফুটাইছো ফুল
মনেতে দিয়েছো দোলা।
তুমিতো ছিলে আপনার মাঝে
আপনি আত্মভোলা।

তোমার সুন্দরে খুঁজিয়াছো তুমি
রবি তারা শশী মাঝে।
সেই সুরসুধা সেই সে দহন
অন্তরে তব বাজে।

আমরা অবোধ চিনিনি তোমায়
করিয়াছি কতো হেলা।
সব দুখ শোক হাসিমুখ লয়ে
কাটিয়ে দিয়েছো বেলা।

আজকের দিনে লই মোরা চিনে
তোমার বহুদা রুপ।
মসজিদেরই পাশে আছো শুয়ে
নিশ্চল নিশ্চুপ।