ওই পুলিশ সুপার যাতে আমাকে বাধা না দেয়- সেলিম ওসমান

নগর সংবাদ (আজকের নারায়নগঞ্জ):  নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, এখনো আমার হাতে অনেক শক্তি আছে। এখনো আমার হাতে বাঘের থাবা আছে। জেলা প্রশাসক সাহেব আপনি না পারলে আমাকে বলে দিবেন, ওই পুলিশ সুপার যাতে আমাকে বাধা না দেয়! আমি কিন্তু বুলডোজার চালাতে পারি। যেভাবে আমি বুলডোজার চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সাংসদের বিল্ডিংটা আমি করেছি। আমি কারো সহযোগিতা নেই নি।

তিনি হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন,  আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের আশেপাশেই সে ব্যক্তি ঘুরে ফিরে! খোকন সাহা আপনার কাছে দায়িত্ব রইলো, আমি তার নাম জানি! আমি চিনি তাকে! আপনি (খোকন সাহা) সনাক্ত করেন কে সেই ব্যক্তি যে হিন্দুদের শ্মশানের জায়গা দখল করেছে? কোন ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করলে নারাণগঞ্জের মানুষ বাধা দিতে জানে। এখানে ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করা চলে না।

রোববার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় দেওভোগ আখড়া রাম শিখা মন্দির প্রাঙ্গণে জন্মাষ্টমী উদযাপন কর্মসূচির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শ্রী বাসুদেব চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ অধ্যক্ষ স্বামী একনাথানন্দজী মহারাজ।

সেলিম ওসমান আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষের নির্বাচন নিয়ে চিন্তার কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। আমাদের পরিবার থেকে আমরা দুই ভাই নির্বাচন করেছি একজন সিটি করপোরেশন নির্বাচন আরেকজন সংসদে নির্বাচন করেছি। নাসিম ওসমান সাহেব পর পর চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। সিটি নির্বাচনে একটি টিভি চ্যানেল থেকে তিনটি-চারটি করে ক্যামেরা এসেছে মনে করেছে না কি জানি কি হয়! কিছুই হয় নি ।

শামীম ওসমান যেভাবেই হোক হেরেছে এবং জয়ী সিটি মেয়রকে স¦াগত জানিয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জে মানুষের নির্বাচন নিয়ে কোন সমস্যা থাকার কথা নয়।

বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক উত্থান এই নারায়ণগঞ্জ থেকে উল্লেখ করে সেলিম ওসমান বলেন, বাংলাদেশে প্রথম বেতার থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীন, বাংলাদেশ মুক্ত। ৬ দফা বলেন আর ১১ দফা বলেন, ভাষা আন্দোলন বলেন সবকিছুর শুরু নারায়ণগঞ্জ থেকে । আর তাই বুঝি নারায়ণগঞ্জে বেশি দুর্ভোগ! নারায়ণগঞ্জে আজ আদমজী জুট মিল, চিত্তরঞ্জন, মাওয়া, ঢাকেশ্বরী, লক্ষী নারায়ণ জুট মিল নেই । এগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

আমাদের নারায়ণগঞ্জের জুট এসোসিয়েশন বিক্রি হয়ে যায় কিভাবে? এই জুট এসোসিয়েশন বিক্রি করে সেখানে ডাক্তারদের অফিস তৈরী করা হয়? আমার একের পর এক অভিযোগের পর সেই জায়গায় আবার অর্ধেক যায়গা ভেঙ্গে জুট এসোসিয়েশনের ভবন তৈরী করা হয়। এবং নারায়ণগঞ্জের অনেকগুলো পাটের মিল খুলনায় চলে যায়। এখন সেখানকার মানুষ সিআইপি গ্রহণ করে। শুনতে বড়ই কষ্ট লাগে লজ্জায় মাথা কাঁটা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমরাদেশে একজন ভাল নেত্রী পেয়েছি। তার মাধ্যমে আজকে আমরা দেশর উন্নয়ন করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশ আকাশ জয়, সমুদ্র জয় করেছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প আজ খুব ভাল অবস্থানে আছে। সামনে আমাদের কৃষিখাতও খুব ভাল অবস্থানে থাকবে। এবং আগামীতে আমি নির্বাচনে জয়ী হই বা না হই আমার কোন সমস্যা নেই । আমি এখন নারায়ণগঞ্জের সব অলি-গলি চিনি যেখানেই র্দুভোগ হবে সেখানেই আমি মানুষের সেবা করতে পারবো।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপী নাথ দাস, এফ.বি.সি.সি.আই পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সরোজ কুমার সাহা, হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টি পরিতোষ কান্তি সাহা, মেট্রো গ্রুপ চেয়ারম্যান শ্রী অমল পোদ্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।