মমতাময় আবেগঘন বিদায় শুক্লা সরকারের

বন্দর(আজকের নারায়নগঞ্জ): চলে গেলেন বন্দর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা(ইউএনও) শুক্লা সরকার। পদোন্নতি জনিত বদলীর কারনে বন্দরবাসীর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিতে হলো তাকে। তবে মায়া-মমতা মিশানো আবেগঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এমপি সেলিম ওসমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর সৌজন্যে এবং উপজেলা পরিষদের আয়োজনে উক্ত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুক্লা সরকার এর হাতে এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে উপহার তুলে দেন তাঁর সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান।

এছাড়াও ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকেও ইউএনও এর হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইউএনও শুক্লা সরকার।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ ৫টি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যানগণ শুক্লা সরকারের বন্দরে রেখে যাওয়া তার কর্মকান্ড তুলে ধরেন। বিশেষ করে করোনা মহাকারীকালীন সময় শুক্লা সরকার এর অসমান্য অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ এর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান।

শুক্লা সরকার এর প্রশংসা করতে গিয়ে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আমার তিনটি মেয়ে। দুজনকে বিয়ে দিয়েছি। মেয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য আমার চোখে পানি এসেছিলো। আজকেও আমার সেই দিনটির মত মনে হচ্ছে। আমি তাকে আটকে রাখতে পারবো না। তাকে যেতে দিতেই হবে। আজকে আমার চেয়ারম্যানদের যে প্রশংসা করা হয় সেটা শুধুমাত্র শুক্লা সরকারের কারণে। একটা টি আর কাবিখার অপব্যবহার হয়নি। বন্দর উপজেলার সত্যিকারের কতজন গরীব মানুষ আছে তা তিনি বলতে পারেন। আজকেও তিনি ২৬জন অসহায় মানুষের একজনকে একটি দোকান এবং ২৫ জনকে ছাগল দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করার চেষ্টা করলেন। এই পরিবারগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে ঘুরে দাড়াবে। গত দুই বছরে শুক্লা সরকারের ব্যাপারে কেউ একটা অভিযোগ করেনি। এ সময় তিনি বন্দর উপজেলার মিনারা সুলতানা, মৌসুমী হাবিব, পিন্টু বেপারী, নাহিদা বারী সম্পর্কে প্রশংসা করেন।

বিদায়ী ইউএনও শুক্লা সরকার ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসক হয়ে ফিরে আসবেন বলে প্রত্যাশা রেখে এমপি সেলিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি সরকারের সামান্য একজন কর্মচারী। আজকে আমাকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো। আমার যখন এখানে বদলী হয় তখন আমি এখানে আসতে চাইনি। আমি ভয়ে ছিলাম। কিন্তু আমার সেই ভয় দূর করেছেন আপনি। আর ভাবী আমাকে মায়ের মত আগলে রেখেছেন। আজকে আমাকে নিয়ে সবাই প্রশংসা করেছেন। কিন্তু আমি এই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য নই। আপনারা ভাল ছিলেন বলেই ভাল কাজ হয়েছে। আজকে অনেকে বলেছে শুক্লা করছে ইউএনও ভাল তাই ভাল কাজ হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা তা না। আমাদের পরিষদের সবাই ভাল ছিল বলেই ভাল কাজ করা সম্ভব হয়েছে। এখানকার সাংবাদিকরাও আমাকে অনেক সহযোগীতা করেছে। বিপদে খোঁজ রেখেছেন মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন। আমি আমার বন্দর উপজেলা বলতেই বেশি পছন্দ করি। আপনারা যারা আছেন তারা সবাই বন্দর উপজেলার জন্য কাজ করবেন। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার জন্য আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন সৎ থেকে সম্মানের সাথে মরতে পারি। আমার কোন ব্যবহারে কখনো কেউ দু:খ পেয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ, বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, নারী ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা ইসলাম শান্তা, বন্দর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার, সহকারী কমিশনার ভূমি আসলাম সুলতানা নাসরিন, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, সাবেক কাউন্সিলর ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, ইফাত জাহান মায়া সহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহধমির্নী সহ সকল ওয়ার্ডের সদস্যরা সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা।