থেমে গেল খালি পায়ে পথ চলা বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  যে দেশের মাটিতে তার সন্তানরা মিশে আছে সেই মাটিতে জুতো সেন্ডেল পড়ে হাটতেন না রমা চৌধুরী ৷ আজ সেই মা, নানান ঘাত প্রতিঘাতের সাথে লড়ে অবশেষে তাঁর দেহ ত্যাগ করলেন। সকল চেষ্টাকে ব্যর্থ করেদিয়ে না ফেরা দেশে চলে গেলেন একাত্তরের বীরঙ্গনা, সাহিত্যিক রমা চৌধুরী। আজ (৩রা সেপ্টেম্বর) ভোর চারটা দশ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে গতকাল (২রা সেপ্টেম্বর) রাতে রমা চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে দেয়া হয়েছিলো। ভোর চারটা দশ মিনিটে চিকিৎসকরা তার লাইফ সাপোর্ট খুলে তাকে মৃত ঘোষনা করে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে৷

গত ২৬শে আগস্ট থেকে রমা চৌধুরী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধিন ছিলেন।

এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে পড়ে গিয়ে কোমরে ফ্রাকচার হওয়ায় নগরির একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হন রমা চৌধুরীর। চলতি বছর ১৭ জানুয়ারি তাকে ভর্তি করা হয় চমেক হাসপাতালে। দীর্ঘদিন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার পর গত ২৫ মার্চ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালীতে। সেখানে নিজ বাড়িতে কিছুদিন ভালো থাকার পর আবারও অসুস্থ হয়ে পরলে তাঁকে পুণরায় হাসপাতালে ভর্তিকরা হয়। এতোদিন চমেক এর চতুর্থ তলার মুক্তিযোদ্ধা কেবিনে চিকিৎসাধিন রমা চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৬শে আগস্ট সকালে চিকিৎসকেরা স্থানান্তর করেন আইসিইউতে।

১৯৪১ সালে বোয়ালখালীর পোপাদিয়া গ্রামে রমা চৌধুরীর জন্ম। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজবাড়িতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলে । সম্ভ্রম হারানোর পরেও দমে জাননি এই বীরাঙ্গনা৷ তিন ছেলে সন্তানকে হারিয়ে চরম দারিদ্রতার মধ্যেও ১৯৯৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পর থেকে তিনি খালি পায়ে হেটে বই বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। এর আগে দীর্ঘদিন বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেছেন৷ ইতিমধ্যে প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা মিলিয়ে এ পর্যন্ত তিনি ১৯টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন রমা চৌধুরী৷

ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী রমা চৌধুরীকে ইতিপূর্বে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি রমা চৌধুরীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বোর্ড গঠন করে তাকে সকল প্রকার চিকিৎসা সেবা চালিয়ে আসছিলো৷ তার আরো আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি সাক্ষাত করলেও নিজের জন্যে কোন সাহায্য তিনি নেননি৷ তবে মৃত্যুর আগে তার বিক্রিত বইয়ের অর্থদিয়ে একটি অনাথ আশ্রম করে যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো রমা চৌধুরীর৷

রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে ‘আজকের নারায়নগঞ্জ’ পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করছে৷ এক শোকবার্তায় আজকের নারায়নগঞ্জ সম্পাদক বলেন, “তাঁর মতন একজন দেশ প্রেমি নির্লোভ মানুষ এই সময়ে খুবই বিরল৷ রমা চৌধুরীরা শত শতাব্দিতেও একবার জন্মে না৷ জাতী আজ একজন বিদ্যান নারীকে হারালো৷”৷