জামতলায় এজিবি সাবেক কর্তা খুনের ঘটনায় স্ত্রী ও ছেলে গ্রেফতার

ফতুল্লা(আজকের  নারায়নগঞ্জ):  জামতলায় এজিবির সাবেক কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন (৬৫) নিহতের ঘটনায় স্ত্রী বিলকিস বেগম এবং ছেলে বিল্লাল হোসেন সাকিবকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

রোববার (২ সেপ্টেম্বর) নিহত শাহদাত হোসেনের স্ত্রী, একমাত্র ছেলে ও মেয়েকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন। তবে মামলার আরেক আসামী নিহতের মেয়ে নিপা পলাতক রয়েছেন।

মামলা দায়ের ও দুজনকে গ্রেফতারের সত্যতা স্বীকার করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের বলেন, নিহতের ছোট ভাই বন্দরের কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের প্রেক্ষিতে (মামলা নং-৯) নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাদী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভাই এজিবির সিনিয়র অডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৫ বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নেয়ারপর এককালীন বেশ কিছু টাকা তিনি পেয়েছিলেন।

ওই টাকায় মাসদাইর এলাকায় একটি বাড়িও করেছেন তবে সে বাড়িটি পরে আবার বিক্রি করে দেন। বাড়ি বিক্রির পর জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার সোহাগ মিয়ার পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। এখানে তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন।

তবে, বিলকিস বেগম (নিহতের স্ত্রী) প্রায় সময় ভাইকে মারধর করতেন। তাঁর সাথে ছেলে মেয়েও যোগ দিতেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকবার বিচার শালিসও হয়। এমনকি অত্যাচারের শিকার ভাই ফতুল্ল মডেল থানায় জিডিও করেছিলেন।

আনোয়ার হোসেনের দাবি, ভাইয়ের সঞ্চিত টাকার জন্যই তাঁকে ভাবী এবং ভাতিজা ভাতিজিরা অত্যাচার, মারধর করতেন। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার ভাইকে হত্যা করা হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামতলার ধোপাপট্টি এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে শাহাদাৎ হোসেন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের ডান চোখের উপরের অংশে একটি এবং ডান বুকে চারটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্ল মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবেদ।

লাশ উদ্ধারের পর নিহতের বড় মেয়ে শামীমা আক্তার নীপার স্বামী ট্রাস্ট ব্যাঙ্কের সিনিয়র অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, বড় মেয়ে, ছেলে ও তার শ্বাশুড়ী টাকার জন্য প্রায়শই তার শ্বশুরকে মারধর করতো। সম্প্রতি তার শ্বশুর একটি বাড়ি বিক্রি করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকায়। সে টাকাটি কোথায় কিভাবে আছে তা তিনি জানেন না। তিনি শ্বাশুড়ী বিলকিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রীকেও সে সংসার করতে দিচ্ছে না। তাকে এ বাড়িতে গত রোজার ঈদের আগে নিয়ে আসে। এরপর থেকে সন্তানসহ নিপা এ বাড়িতেই বসবাস করছে। পারিবারিকভাবে নিপাকে নিতে চাইলেও অজ্ঞাত কারণে তার শ্বাশুড়ী দিতে রাজি হচ্ছে না।

এছাড়া নিহতের ভাগিনা জাহাঙ্গীর হোসেনও দাবি করেছেন এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তিনি বলেন, প্রায় সময় মামী বিলকিস বেগম, মামাতো ভাই বিল্লাল ও বোন নিপা মামাকে মারধর করতেন। এরমধ্যে একবার মারধর করে মামার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন তাঁরা।