না‘গঞ্জ প্রশাসনের পানিতে দুর্বলতাঃ নিভছে না আব্দুল্লাহ ব্রিকসের পরিবেশ বিধ্বংসী আগুন!

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ

ফতুল্লার পাগলাস্থ অবৈধ ইটভাটা আবদুল্লাহ ব্রিকসের ২টি ভাটায় সম্প্রতি অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে ৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে ভাটার আগুন নিভিয়ে দেয়া হয়।

শর্ত দেয়া হয়েছিল আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চিমনি সরিয়ে নেয়া হবে। কিন্তু চিমনী সরানোতো দুরের কথা জেলা প্রশাসনের দুর্বল পানির ছোয়ায় সেই ইটভাটার চুল্লিতে আগুন আরো দ্বিগুন হয়ে জ্বলা শুরু হয়েছে। চিমনী দিয়ে বের হচ্ছে সাদা-কালো ধোয়ার কুন্ডলী।

গত রোববার(১৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে সরজমিনে এসব ইটভাটা পরিদর্শনে দেখা যায়, দেদারসে জ্বলছে আগুন,পোড়ানো হচ্ছে লাখ লাখ ইট।

সেখানে দায়িত্বরত কোন মালিক ও কিংবা ম্যানেজারের সাক্ষাত না মিললেও এ ব্যাপারে ইটভাটায় কর্মরত এক শ্রমিক জানায়,ভ্রাম্যমান আদালত কয়েকদিন আগে অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করে গেছে প্রশাসন। তবে তারা পানি ছিটালেও আগুন নিভেনি। আর বেকু দিয়ে যে সকল অংশ ভাঙ্গা হয়েছিল সেগুলো মেরামত করে ভাটা চলছে।

পরে সংবাদ পেয়ে ভাটার পরিচালক আক্রাম হোসেন উপস্থিত হয়ে জানান, তাদের জেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র রয়েছে তবে পরিবেশের ছাড়পত্র পাননি এখনো। ছাড়পত্রের জন্যে কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান,জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স রয়েছে তারপরেও কেন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলো ? এর জবাবে আক্রাম জানান,প্রশাসন বলেছে আগের ডিসির আমলে আমরা নাকি মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছি।

অভিযানের সময় কিলন স্কেভেটরের সাহায্যে ভাটার কিছু অংশ ভাঙ্গা হয়েছিল

আক্রাম আরো জানান,তারা ৪ ইটভাটার মালিক জনৈক আইনজীবি জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকায় উচ্চ আদালত থেকে রীট করেছি। তবে সেই রীট আদেশ নাকি ভূয়া। ঐ উকিলেই আমাদের ঠকিয়েছে। তার কাছ থেকে কিছু টাকা ফেরত নিয়েছি।

জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারী পাগলার নুরুল ইসলামের মালিকানাধীন আবদুল্লাহ ব্রিকসের এ দুটি ইটভাটায় দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মানজুরা মোশারফ ও সানজিদা আক্তারের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পানিতে নেভানো চেষ্টা

তখন ৯ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১৫ দিনের মধ্যে চিমনী অপসারনের নির্দেশনা প্রধান করা হয়। এ সময় বেকু দিয়ে সামান্য অংশ ভেঙ্গে ফেলাসহ পানি দিয়ে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালানো হয়।

এ অভিযানের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে গনমাধ্যমগুলোকে বলেছিল, মেসার্স আব্দুল্লাহ ব্রিকস সাপ্লাইয়ার্স-০১ কে ৫ লক্ষ টাকা এবং মেসার্স আব্দুল্লাহ ব্রিকস সাপ্লাইয়ার্স-০২ কে ০৪ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চিমনী অপসারণসহ ইটভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখিত ইটভাটাগুলি পরিবেশগত ছাড়পত্র বিহীনভাবে আবাসিক এলাকা, রেল লাইন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) এর ৮ এর (১) ও ৮ এর ৩ (ঙ) ধারা লংঘনের কারণে অবৈধ ইটভাটাগুলিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।