সব বলবো বেশি চুলকাইয়েন না,৬ দলিলের মাস্টার মাইন্ড কে? – খোকন সাহা

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, বেশি চুলকাইয়েন না। ৬ দলিলের মাস্টার মাইন্ড কে? ৬টা দলিলের পর্দার অন্তরালে কে? যে কোন সময় খুলে যাবে আমার মুখ। মুখ খোলার চেষ্টা করবেন না।

খোকন সাহা বলেন, আমরা বলেছিলাম রাজেন্দ্র শর্মাকে গুম করা হয়েছে। উনি প্রতিবাদ করেছেন। বলেছেন যে, না রাজেন্দ্র শর্মাকে দাহ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শশ্মানে। আমি সব জানি। শহরের ৫০ বছরের ইতিহাস আমি জানি। মুখ খোলাবেন না, ঘর থেকে বের হতে পারবেন না’।

শনিবার ( ৬ ফেব্রুয়ারী ) বিকেলে মেয়র আইভীর পরিবার থেকে দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে জিউস পুকুরের সামনে গণ সমাবেশে এড. খোকন সাহা বক্তব্য রাখছিলেন।

৬টি দলিল দেখিয়ে এসময় জিউস পুকুর সম্পত্তি দখলে মেয়র আইভীর পরিবারের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গে খোকন সাহা বলেন, ‘এই ৬টা দলিল মেয়র বলেছে উনার বাবার ওয়ারিশ সূত্রে উনারা মালিক হয়েছে। আজ প্রমাণ করে দিবো। আমরা সত্য বলছি। দলিল নাম্বার ৩৫৫১৮, সম্পাদনের তারিখ ২২/৮/১৯৭৯, এই দলিলটি হয় মেয়রের আপন নানা মাহাতাব উদ্দিনের নামে, সম্পত্তি ৫৭ শতাংশ। এই জিউস পুকুরের দলিল হইছে মেয়র আইভীর নানার নামে, ১০ হাজার টাকায় কিনেছে মাহাতাব উদ্দিন। একই তারিখে ২২/৮/১৯৭৯ দ্বিতীয় আরেকটি দলিল, এই দলিলে নাম মাহাতাব উদ্দিন সাহেবের মেয়ে, আইভীর মা ও আমার ভাবী অত্যন্ত ভালো মহিলা মমতাজ বেগম’র নামে। যার স্বামী আলী আহম্মদ চুনকা, ২২/৮/১৯৭৯ তারিখে দলিল নাম্বার ১২৪২৩। আমার মাতৃতুল্য ভাবীর নামের সম্পত্তি জিউস পুকুর পাড়ের ৬০ শতাংশ এই দলিলে জিউস পুকুরের দাম লেখা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তৃতীয় আরেকটা দলিলের মালিক আইভীর দুই ভাই আমার ভাতিজা উজ্জ্বল ও রিপনের নামে। দলিলের নাম্বার ৩২৫১৫, এখানেও একই তারিখ ২২/৮/১৯৭৯, এই দলিল যখন হয় আমার দুই ভাতিজার বয়স উজ্জ্বল’র দেড় বছর ও বড় ভাতিজা রিপনের বয়স সাড়ে ৩ বছর। তারা কিনছে ৬০ শতাংশ জিউস পুকুর পাড় ১০ হাজার টাকায়। চতুর্থ আরেকটি দলিল আইভীর চাচী আমার শ্রদ্ধের চুনকা ভাইয়ের ভাই জমু ভাইয়ের স্ত্রী সাহারা খাতুনের নামে। এই দলিল ২২/৮/১৯৭৯ তারিখের, দলিল নাম্বার ৩২৪২৪। পঞ্চম আরেকটি দলিল আইভীর তিন মামার নামে একই তারিখের দলিল নাম্বার ৩২৪২২, এই দলিলটার মালিক আইভীর আপন তিন মামা। ষষ্ঠ দলিল আমার প্রিয় নেতা চুনকা ভাই ২২/৮/১৯৭৯ তারিখে দলিল নাম্বার ৩২৪২১। অথাৎ ,জিউস পুকুর পাড়ের সম্পত্তি বিক্রি হইছে ৬০ হাজার টাকায়। এবার মাননীয় মেয়র, আমি বললাম দায়িত্ব নিয়ে, আইসিটি আইনে আরেকটা মামলা করেন আমার নামে, চ্যালেঞ্জ করলাম।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘মাস্টার মাইন্ড সর্ম্পকে আরেকদিন বলবো। আমার দলের বদনাম হবে। ১৯৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর কিছু লোকের জন্য বদনাম হয়েছিল। কারণ, তারা লুট করেছিল। নারায়ণগঞ্জ তার ব্যতিক্রম নয়। সব বলে দিবো । এখনও সময় আছে দেবোত্তর সম্পত্তি ওয়াকফ্ স্ট্রেটের সম্পত্তি ছেড়ে দেন। সব বলবো, কত তারিখে কার বাড়ি নামমাত্র মূল্যে দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছেন, কোন কোন জায়গা দখল করেছেন, সব বলে দিবো। আমরা জানি নারায়ণগঞ্জের সিএস আরএস আছে’।

গন সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি দীপক কুমার সাহার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. নিম চন্দ্র ভৌমিক, প্রধান বক্তা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী নির্মল চ্যাটার্জী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল(ভিপি বাদল), নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি সাহাদাত হোসেন ভুইয়াঁ সাজনু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড মুহাম্মদ মোহসীন মিয়াসহ আরো অনেকে।