আইভির সেই ছবি ৪ বছর পরে দেখলেন হেফাজত নেতা মাওলানা আউয়াল!

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ

৪ বছরের আগের নির্বাচনী প্রচারনার সময়কালে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির একটি ছবি দেখলেন নারায়নগঞ্জের ডিআইটি মসজিদের খতিব এবং পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক ও হেফাজত ইসলামির নেতা মাওলানা আবদুল আউয়াল।

শুক্রবার(৫ ফেব্রুয়ারী) জুম্মা নামাজের খুতবায় বয়ানের সময় রাগান্বিত হয়ে মাওলানা আউয়াল মেয়র আইভিকে উদ্দেশ্য করে বলেন,আমি ‘সাধারণ সম্পাদক’ হওয়ায় তার মাথা তেলে বেগুনে জ্বলতে শুরু করেছে।’

আব্দুল আউয়াল মেয়র আইভীর সমালোচনা করে বলেন, ‘উনি নারায়ণগঞ্জের মেয়র। মুসলিম পরিবারের মেয়ে হয়ে সিঁদুর লাগিয়ে মন্দিরে গিয়ে পুজা করছেন। সেই ছবি নাকি ভাইরাল হয়েছে। একজন আমাকে এনে দেখালেন। আপনি কোরবানী করেন না, অথচ ১০ মহরমে গরু জবাই করেন। মাজারপন্থী, শিরকপন্থীদের সমর্থন করেন আর কওমি মাদ্রাসা পন্থীদের সতিনের ছেলে মনে করেন। আপনি তো সেই আইভী। আপনার ইতিহাস উন্মোচন হচ্ছে। এগুলো কোন দিন মুসলমানেরা সহ্য করবে না’।

আব্দুল আউয়াল আরও বলেন, ‘এখন আবার আলোচনা শুনছি, ডিআইটি মসজিদের সামনে নাকি ফ্লাইওভার বানানো হবে আর শেখ রাসেল পার্কের দর্শনার্থী নারী-পুরুষ সব মসজিদের উপর দিয়ে চলাচল করবে। আপনারা বুঝতে পেরেছেন ব্যাপারটা? এখনও বুঝেন নাই? এখন উনার টার্গেট ডিআইটি মসজিদ নিয়ে যাওয়ার। মসজিদ নিয়ে নিজের মন মত বানাবে। আমাকেও বলেছিলেন, মসজিদটা তাকে দিয়ে দিতে। আর এখন আমি ‘সাধারণ সম্পাদক’ হওয়ায় তার মাথা তেলে বেগুনে জ্বলতে শুরু করেছে।’

আব্দুল আউয়ালের ভাষ্য, ‘আপনি মেয়র হওয়ার বহু আগে থেকেই এখানে এই মসজিদ সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই জায়গা আপনার বাবার না। রেলওয়ের জায়গা দখল করে যা মনে চায়, তাই করছেন। এখন আবার ডিআইটি মসজিদ নিয়েও আপনি যা মনে চায়, তাই করতে চাইছেন? ‘আইভী’ আপনি মনে রাইখেন, আমি আব্দুল আউয়াল চলে যেতে পারি। নারায়নগঞ্জের জনগণ কোন দিনও আপনাকে ছাড়বে না। হে ইমানদারেরা, ইমানের উপর বলিয়ান হও। এই ডিআইটি মসজিদের উপর যদি কেউ হাত দিবে, তার কবর রচিত হবে এই বাংলার জমিনে। ডিআইটি মসজিদের সামনে ফ্লাইওভার কোনদিনও বাস্তবায়িত হতে দিবো না।’

আইভীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তার (আইভী) অবস্থাটাও বুঝতে পারতেছি না। মাসদাইর গোরস্থানে দীর্ঘদিন একটা মাদ্রাসা ছিল। মাদ্রাসাটা ভেঙ্গে দিসো। মসজিদটা ভেঙ্গে সে একটা মসজিদ করছে। মসজিদে সে তার মন মত বেদাতি ইমাম ঢুকাইছে। আমাদের দীর্ঘ বছরের যে হক ইমাম ছিল তাকে উচ্ছেদ করেছে। সেখানে সে বলেছিল নিজস্ব অর্থায়নে মাদ্রাসাটা করে দিবে। এখন পর্যন্ত তারা মাদ্রাসাটা করে দিচ্ছে না। ইদানিং খবর পেলাম বাগে জান্নাত একটি মসজিদ মাদ্রাসা ভাঙ্গার জন্য প্রথম লোক পাঠাইছে। পরবর্তীতে সে নিজে যাইয়া বলেছে এটা ভেঙ্গে দিবে এটা সিটির জায়গায় আছে। এখানে শিশু পার্ক বানাবে। মসজিদ ভেঙ্গে মাদ্রাসা ভেঙ্গে শিশু পার্ক বানাইবো। ইদানিং আরও আলোচনা শুনতেছি ডিআইটি মসজিদের সামনে দিয়ে সে একটা ফ্লাইওভার বানাবে রাসেল পার্ক পর্যন্ত। সেদিন লোকজন এসে মেপে গেছে। পার্কের দর্শনাথীরা উপর দিয়ে যাবে। মসজিদের মুসল্লিরা নিচ দিয়ে যাবে।

এসময় তিনি মুসল্লিদের বলেন, বুঝতেছেন ব্যাপারাটা? বুঝেন নাই এখনো? তার টার্গেট হলো ডিআইটি মসজিদটা সে নিয়ে যাবে। আসলে মসজিদ নেয়ার টার্গেট হলো আমি এখানে কেনো আছি। এমন কি সে (আইভী) বলতেছিল এই লোকটা (আব্দুল আউয়াল) মসজিদের সেক্রেটারী হয় কি করে? আমার সভাপতিকে সে বলছিল যে ওনাকে আপনাকে সেক্রেটারী বানাইছেন কেন? ইমাম আবার সেক্রেটারী কিভাবে হয়? তার (আইভী) মাথা তেলে বেগুনে জলতে শুরু করেছে। পরে ওনি (সভাপতি) বলছিলেন যে আমাদের কাছে গ্যাজেট আছে। ফাউন্ডেশন থকে আমরা গ্যাজেট আনছি। কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান এইটার সেক্রেটারী/সাধারণ সম্পাদক হতে পারে।

মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে আব্দুল আউয়াল বলেন, তার (আইভী) টার্গেটটা হইলো এখন ডিআইটি মসজিদটা। ডিআইটি মসজিদ তো আপনি মেয়র হওয়ার আগে সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটা আপনার বাবার জায়গা না। এইখানে আপনি বাবার নামে একটা পাঠাগার বানাইছেন সেইখানে কত হাজার কোটি টাকা খরচ করেছেন? ফুটপাত আপনি পরিস্কার রাখতে চান, অথচ ফুটপাত দখল করে রাখছেন এখানে। মানুষগুলি হাটতে পারতেছে না। তাদেরকে রোডের উপর দিয়ে হাটতে হয়।