অনেক জেলজুলুমের মধ্য দিয়ে এই শেখ রাসেল পার্ক- আইভি

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ

শেখ রাসেল নগর পার্কের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলেন, ‘চারুকলা ইনস্টিটিউট ভবনের কাজও এগিয়ে চলছে। আমরা রাস্তায় কোন খাবারের দোকান থাকতে দিবো না। বরং সব দোকানগুলো পার্কের ভিতরে ফুড কোর্টে নিয়ে যাবো। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে মানুষ আসে। তাই এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে দেওভোগবাসীর অসম্মান হয়।’

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকায় অবস্থিত শেখ রাসেল পার্কে উল্লাস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পিঠা উৎসবে বক্তব্য রাখার সময় সকলের প্রতি এমন অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক জেলজুলুমের মধ্য দিয়ে এই শেখ রাসেল পার্কটি করতে হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে এবং এখনও মামলা লড়ছি। তাই আপানাদের কাছে অনুরোধ করবো পার্ক করতে যেভাবে আপনারা আমাকে বিভিন্নভাবেও বিভিন্ন সময়ে কাজ করতে সহযোগিতা করেছেন এটা গড়ে তোলার পরেও আপনাদের সহযোগীতা যেন অটুট থাকে।’

পিঠা উৎসবের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আইভী বলেন, ‘আমাদের শহরের মা বোনেরা আগের মত আর পিঠা বানাতে চাই না। এখন প্রচুর দোকান হয়ে গিয়েছে এবং বাসায় বসে অর্ডার দেই। এরকম একটা পরিবেশে নিজেরা পিঠা বানিয়ে মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে আমরা বাঙালি এবং এখনও আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হারিয়ে যায়নি। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য আকড়ে ধরে রাখতে চাই এবং এটা ভবিষ্যত প্রজন্মকে শিক্ষা দিতে চাই।’

উল্লাস সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্লাবের জন্য জায়গা চাইলে সিটি মেয়র বলেন, ‘শেখ রাসেল পার্ক করার জন্য দেওভোগের ন্যাশনাল ক্লাব, উল্লাস সামাজিক সংগঠনের ক্লাব এবং সমাজ উন্নয়নের ক্লাব ভাঙতে হয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে আমাকে এই পদক্ষেপগুলো নিতে হয়েছে এবং আপনারা সহযোগিতা করেছেন। বলার পরপরই আপনারা সব সরিয়ে দিয়েছেন তাই আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে আমাদের দেওভোগ আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন মনা বিশেষ সহযোগিতা করেছেন। তার কাছে একটা অনুরোধ থাকবে যেখানে আওয়ামী লীগ অফিস আছে সেখানে ৩-৪ তলার ভবন করে দিতে চাই। সেখানে আওয়ামী লীগের অফিস থাকবে আবার উল্লাস ও ন্যাশনাল ক্লাবের জন্য অফিসও থাকবে। আপনার কাছে বিশেষ অনুরোধ অনুমতি দিলে আমি ভবনটি করে দিতে চাই। কারণ চারপাশে আর জায়গা নাই ও পার্কের ভিতরেও কাউকে অফিসের জন্য জায়গা দেওয়া যাবে না।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেলিম হাসান দিনারের সঞ্চালনা ও সভাপতি ওয়াহিদ মুরাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আওয়ামী লীগ নেতা মনোয়ার হোসেন মনা, সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, সাইদুর রহমান হাইয়্যূল, যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম কুদরত উল্লাহ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ, দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দিন আহাম্মেদ মামুন, প্রচার সম্পাদক এএএম রিশাত, কোষাধ্যক্ষ নুরুল হুদা মহব্বত, সাংস্কৃতিক আওলাদ হোসেন চাও, ক্রীড়া সম্পাদক শরীফুর রহমান সজীব, সাবেক সভাপতি মো. রাকিব, কার্যকরি সদস্য এএম সাইফুল্লা রাহাত, এম এ মাসুম, আরিফুল হক ফাহিম, আশরাফুর রহমান হৃদয়, মনির হোসেন ও উজ্জল আহাম্মেদ।

উৎসবে ১৮ রকমের পিঠা নিয়ে সংগঠনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত শিশুদের মধ্যে পিঠা তুলে দেন নাসিক মেয়র আইভী