ঘড়ি না দেখেই সময় বলে দেয় নওগাঁর ইয়াছিন!

 

নওগাঁ থেকে মাহবুবুজ্জামান সেতু(আজকের নারায়নগঞ্জ): ইয়াছিন এখন নিজেই ঘড়ি! ঘড়ি না দেখেই সময় বলে দেয়ার মত অাছে তার আযব অভিজ্ঞতার কাহিনী।নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের ইয়াছিন আলী (৬৫) নিজেই ঘড়ি হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে।

সকাল, দুপুর, বিকাল এবং সন্ধ্যায় কিংবা রাতে যে কোন সময় যদি বলা হয় “চাচা এখন সময় কতো? “শুধু হাতের দিকে তাকিয়েই ঘড়ি দেখার ভান করে বলে দেন “এখন সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড”।

“চাচা আমার ঘড়িতে বর্তমান সময় ১০ টা ৩৯ মিনিট”। প্রতি উত্তরে তিনি বলেন “তোমার ঘড়ির সময় হয়তো ঠিক নেই এখনই আমার সাথে মিলিয়ে নাও, কেননা আমি প্রায় ২০ বছর ধরে সময় নির্ধারণের বিষয়ে হেবজো করছি”।

নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল ইয়াছিনপুর গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন আলী (৬৫) পেশায় এক জন তরকারি ব্যবসায়ী । দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে এ ব্যবসা করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সংসারে ৪ ছেলে, ৫ মেয়ে। নিজের কোন জোত-জমি না থাকলেও সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভূক্ত জায়গাতে বসতি গড়ে কোন রকমে মাথা গোজার ঠাঁই করে বসবাস করেন।

রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম সহ জেলা সদর এবং পার্শ্ববর্তী বগুড়া ও নাটোর জেলার অংশিক গ্রামের মানুষ তাকে ঘড়ি ইয়াছিন নামে চেনেন। তিনি যে গ্রামে বসবাস করেন সে জায়গাটা রাতোয়াল শোলার পাড় নামে কাগজপত্র থাকলেও গত প্রায় ২০ বছর ধরে ইয়াছিন নামে নাম করণ হয়ে এখন পরিচিতি লাভ করেছে ইয়াছিনপুর নামে।

ইয়াছিন আলী জানান, গত ২৫ বছর আগে কাঁদা-মাটির রাস্তায় সাইকেল নিয়ে তিনি বিভিন্ন গ্রামে কাঁচা মাল বেচা-কেনা করতেন। সে সময় তার হাতে থাকতো একটি ঘড়ি। এক সময় তিনি একজন নিম্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে ঘড়ি পরতে দেখে প্রতিজ্ঞা করেন আর হাতে ঘড়ি ব্যবহার করবেন না। ধীরে ধীরে ঘড়ি না দেখেই সঠিক সময় নির্ধারণ করার সাধনা করতে থাকেন। মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই হেবজো করেন ঘড়ি না দেখে সঠিক সময় বলে দেয়ার।

প্রথমে অনেক এলোমেলো হলেও পরে তা সম্পূর্ন আয়ত্তে এসে যায়। সেই থেকে ধীরে ধীরে প্রচার হতে থাকে তার ঘড়ি না দেখেই সময় বলে দেয়ার মত আযব অভিজ্ঞতার কাহিনী। বয়সের ভারে আস্তে আস্তে নুয়ে পড়লেও সেই সাইকেল নিয়েই গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে দু’মুঠো ডাল ভাতের জন্য ব্যবসা করেন। তার একান্ত ইচ্ছা তিনি আর্থিক কোন কিছু না পেলেও যেনো বিশ্বের ইতিহাসে কোন না কোনো ভাবে হলেও তার নাম লেখা থাকে। কেননা তার জীবদ্দশায় ঘড়ি না দেখে সঠিক সময় বলে দিতে পাড়ে এমন মানুষ আছে বলে তার জানা নেই।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াছিন আলী আমাদের গ্রামে বসবাস করে। অনেক দিন থেকে তিনি ঘড়ি না দেখে সময় নির্ধারণ করে বলে দিতে পাড়ে। এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাতোয়াল গ্রামের অনেক উৎসুক জনতা যাচাই-বাছাই করে এর সত্যতা পাওয়ায় ইয়াছিনের নাম তখন থেকেই ঘড়ি ইয়াছিন বলে পরিচিতি লাভ করেছে।