নওগাঁয় দর্শনীয় স্থানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়!

নওগাঁ থেকে মাহবুবুজ্জামান সেতু(আজকের নারায়নগঞ্জ):  নওগাঁর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঈদের দিন থেকে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষদের উপস্থিতি বেড়েছে ব্যাপকহারে।

বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল বদলগাছীর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, হলুদ বিহার, ধামইরহাটের জাতীয় উদ্যান আলতাদিঘী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত আত্রাইয়ে কাছারি বাড়ি, মান্দার ঐতিহাসিক কুশুম্বা মসজিদ, পত্নীতলার দিবর দিঘী, সাপাহারের জবই বিল, নিয়ামতপুরের ছাতড়া বিল,নওগাঁ হাঁসাইগাড়ি বিল এবং তালতলি।

এছাড়া নওগাঁ শহরে অবস্থিত জেলা পরিষদ পার্ক, আব্দুল জলিল শিশু পার্ক, দিঘলীর বিল, ডানা পার্ক, বলিহার রাজবাড়ী এবং দুবলহাটি রাজবাড়ী উল্লেখযোগ্য। শিশু-কিশোর মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন মিলে ঘুরে ঘুরে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেছে। এসব দর্শনীয় স্থানে পার্শবর্তী জেলা জয়পুরহাট ও বগুড়া থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণ-পিপাসুরা।

ঈদের দিন বিকেল থেকে নওগাঁ শহরের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন আব্দুল জলিল শিশু পার্কে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিনোদনপ্রেমীরা ছুটে যান শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তির মোড় সংলগ্ন জেলা পরিষদ পার্কে। শহরের বুক চিরে বয়ে চলা ছোট যমুনা নদীর তীরে নির্মল বাতাস ও বিনোদনের জন্য অনেকে ভিড় জমান। সন্ধ্যার পর নদীর দু’ধারের আলোকসজ্জা মানুষের আনন্দকে যেন আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান মান্দার ঐতিহাসিক কুশুম্বা মসজিদে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় দেখা গেছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। ভ্রমণ-পিপাসুরা পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রাচীন এই মসজিদটি ঘুরে দেখেন।

দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে আগামীর প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে ও নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে ছুটে আসেন ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে। ঈদের দিন থেকে বিভিন্ন জেলার নানান বয়সী মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। সাধারণত বছরের অন্যান্য সময় এখানে যত পর্যটক আসেন, ঈদের ছুটিতে কয়েকগুন বেশি সমাগম ঘটে।

এছাড়া নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার গোপালকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত অাকবর অালী মন্ডলের পুত্র শামসুজ্জামান সাজু এবং তার প্রতিবেশিরাসহ পিকঅাপ গাড়ি ভাড়া করে প্রায় ২০জন বেড়াতে এসেছেন আব্দুল ডানা পার্কে। তারা বলেন,যে যার মতো কর্মব্যাস্ততার কারণে অামাদের ঘোরাঘুরির তেমন সুযোগ হয় না।ঈদ উপলক্ষে অামরা সবাই মিলে একটু বিনোদন করার জন্য পার্কে এসেছি। বিনোদনের জন্য পার নওগাঁতে এই একটি মাত্র জায়গা। কিন্তু কষ্টের বিষয় হচ্ছে যে, ঈদের দিন বিকেলে বৈরী অাবহাওয়ায় পার্ক খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। অার সেকারণে অামাদের এই পার্কথেকে ফিরে যেতে হয়। তবে অামরা নওগাঁর হাঁসাইগাড়ি বিলে এবং তালতলিতে অনেক মজা করেছি। মোট কথা অামরা সবাই মিলে খুব আনন্দ করেছি।