বন্দরে ফুলহর -মুরাদপুর ব্রীজ রাস্তার বেহাল দশা,দুর্ঘটনার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক,বন্দরঃ  বন্দর উপজেলাধীন মদনপুর টু মদনগঞ্জ সড়কের নাসিক ২৭নং ওয়ার্ডের ফুলহর টু মুরাদপুর ব্রীজগামী আরসিসি ঢালাই রাস্তা,গাইড ওয়াল ও রিটানিং ওয়াল নির্মাণের ১ বছরের মাথায় ২টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ভেঙ্গে ও ডেবে নিকটস্থ খালে হেলে পড়ছে ।

এতে জনগণের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে এবং এ ভঙ্গুর অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা রাস্তার সাথে নিকটস্থ বসতবাড়ীগুলো পর্যন্ত খালে হেলে পড়ার আশংকায় দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণ। একারণে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ।

উক্ত রাস্তাটি নাসিক ২৭নং ওয়ার্ডের আওতাধীন, যা গেল ১ বছর আগে সিটি কর্পোরেশনের বাজেট থেকে নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজী তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ী সংলগ্ন প্রায় ৮০ফুট রাস্তা প্রায় ৫ফুট পর্যন্ত ডেবে গেছে এবং গাইড ওয়াল খালে হেলে পড়েছে। যেকোন সময় আরও ডেবে মাঝখান দিয়ে রাস্তাটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার আংশকা করা হচ্ছে।

খানিকটা অদূরে মুরাদপুর ব্রীজ সংলগ্ন শামসুল হকের ছেলে নুরুল হকের বাড়ীর সন্নিকটে প্রায় ১১০ফুট রাস্তার পাশের গাইড ওয়াল ভেঙ্গে খালে পড়ে যাওয়ায় রাস্তাটির ভিতরের প্রায় ১০ ফুট মাটি ও বালু সরে গিয়ে সুরঙ্গের আকার ধারণ করেছে এবং উক্ত ১১০ ফুট রাস্তাটি যে কোন সময় ভেঙ্গে খালে পড়ে যাবার মত বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা বেড়ে গেছে। রাস্তার সাথে সাথে ব্যক্তিগত দালান ভেঙ্গে পড়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে নুরুল হক ব্যক্তিগত উদ্যোগে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে উক্ত গাইড ওয়াল রক্ষার্থে ও রাস্তার সুরঙ্গ বন্ধে ১২ দিন যাবৎ ৫জন শ্রমিক দিয়ে বালু ও আনুষাঙ্গিক কাজ করাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় শাহরুখ, আঃ মান্নান, মোঃ আলী, শামসুল হক, তৈয়ব আলী, দেলোয়ার, শামসুল প্রধান, জাহাঙ্গির ও মজিবুর সহ স্থানীয়রা সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তা নির্মাণে আমরা দ্রুত আমাদের বাড়ি ভেঙ্গে ও সরিয়ে দিয়েছি। কয়েক লক্ষ টাকার জায়গা আমরা বিনা স্বার্থে ছেড়ে দিয়েছি যাতে রাস্তা নির্মাণ হয়। কারণ রাস্তা হলে চলাচলের ব্যবস্থা সুগম হবে। কিন্তু ১ বছরের পূর্বেই এভাবে রাস্তা ডেবে যাওয়ায় আমাদের চলাচল ব্যহত হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যদি ঠিকভাবে রাস্তার নির্মাণ করত, ঠিকভাবে যদি রোলিং ও পাইলিং করত এবং রাস্তা নির্মাণে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়াররা যদি ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করত তাহলে এ অবস্থা হতনা। তাদের খামখেয়ালীর কারণে নিম্ন মানসম্পন্ন রাস্তা নির্মাণ হয়েছে যাতে আমাদের সম্পত্তির ও সরকারের অর্থের অপচয় হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা এ রাস্তা ও গাইড ওয়াল ভালভাবে মেরামতের জন্য মাননীয় মেয়র মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে অত্র ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তা ও গাইড ওয়াল ভেঙ্গে যাবার বিষয়টি স্থানীয়রা আমাকে জানিয়েছেন এবং সরেজমিনে বিষয়টি দেখেছি। এ বিষয়ে আমি সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি এবং আবারও গুরুত্বসহকারে অবহিত করব যাতে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা ও গাইড ওয়ালের মেরামতের যথাযথ ব্যবস্থা নেন।