পানির দামে কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি!

 

নওগাঁ থেকে মাহবুবুজ্জামান সেতু: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নওগাঁ জেলায় প্রায় লক্ষাধিক গৃহপালিত পশু কুরবানী দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলামানরা। কুরবানির পশুর চামড়ায় গরীব-মিসকিনদের হক রয়েছে। উপযুক্ত মূল্যে কুরবানিদাতারা চামড়া বিক্রি করে সেই টাকা গরীব-মিসকিনদের দিয়ে থাকেন। তবে চামড়ার দাম এবার কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গরীব-মিসকিনরা। আর মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।

কুরবানি ঈদের সময় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বা ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থাকে বেশি। তারা ধারদেনা করে টাকা সংগ্রহ করে চামড়া কিনে থাকেন। লাভের টাকা থেকে আবার তা পরিশোধ করে থাকেন। তারা গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া কিনে চামড়া হাটে বিক্রি করেন। সেখান থেকে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকেন।

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের ২৫০ জনের মতো সদস্য হলেও কুরবানি ঈদে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজারের মতো ফড়িয়া ব্যবসয়ী চামড়া কিনেন। এ ঈদে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন। চামড়া কিনে বিপদে পড়তে হয়েছে তাদের। কেউ কেউ কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করেছেন। আবার যারা কুরবানি দিয়েছেন তারাও চামড়ার ন্যায্য দাম পাননি বলেও জানা গেছে। এক কথায় পানির দামে তাদের চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে।

বুধবার ঈদের দিন বিকেলে ছিল জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাটে অস্থায়ী চামড়ার হাট। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বকরির চামড়া ১০-১৫ টাকা, খাসির চামড়া ২০ -৫০ টাকা, বকনা গরুর চামড়া ১৫০-২০০, ষাঁড় গরুর চামড়া ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার গোপালকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত অাকবর অালীর ছেলে শামসুজ্জামান সাজু জানান,এবার অামরা একটি খাশি কুরবানি দিয়েছি। প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে অামার বড়ভাই সেতু অসুস্থাবস্থায় ভ্যান ভাড়া করে সতিহাটে চামড়া বিক্রি করতে এসে বড়ই বিপদে পড়েছেন। চামড়ার দাম না থাকায় মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ঈদের দিন বিকেলে বৈরী অাবহাওয়ায় বৃষ্টির কারণে এবং রাস্তায় কাদা থাকায় ভ্যানে চড়ে যেখানে যাতায়াত ভাড়াই টাকা ৪০ টাকা। তবে চামড়ার দাম না থাকায় গরীব-মিসকিনরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী উজ্জল এবং রুবেল বলেন, এ বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাঁচা চামড়া কিনেছেন। চামড়ার হাটে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা না আসায় কিছুটা লোকসানে আশঙ্কা করছেন তারা।

মান্দা উপজেলার সতীহাটের চামড়া ব্যবসায়ী অাজাদ মেম্বার এবং বেলাল বলেন, ধারদেনার টাকায় চামড়া কিনে খুব হতাশার মধ্যে পড়েছি। চামড়া পচন রোধে লবণ দিতে হয়েছে। লবণের দামও বেশি। পাইকাররাও তেমন আসছেন না। এ মাল কবে বিক্রি হবে তার কোনো ঠিক নেই।

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মমতাজ হোসেন বলেন, সরকার চামড়ার যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তার থেকে ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা অনেক বেশি দামে চামড়া কিনেছে। তারা চামড়ার ধরন ও ফুট না বুঝে বেশি দামে চামড়া কেনায় এখন লোকসানের মুখে। ফলে বেশি দামে চামড়া কেনায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগামীতে চামড়ার বাজারে ধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।