গ্রেনেড হামলায় বিএনপি ওতপ্রোতভাবে জড়িত – প্রধানমন্ত্রী

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্রষ্টার ইশারায় ২০০৪ সালে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি।

নারকীয় ওই হামলার ১৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, যে ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন, তার দিকে ছোড়া গ্রেনেডটি ট্রাকের ভেতর না পড়ে কোনায় লেগে বাইরে বিস্ফোরিত হয়েছিল।

‘‘জানি না আল্লাহর কী ইচ্ছা ছিল। আমরা সাধারণত এ ধরনের র‌্যালি করলে সাথে ট্রাক রাখি। এবং সেই র‌্যালির ওপর দাঁড়িয়েই আমরা বক্তব্য দিয়ে র‌্যালি শুরু করি।’

সেদিন যখন এলাম, আমরা দেখি ট্রাকটা সাধারণত যেখানে দাঁড়ায় তার থেকে একটু সামনে চলে গেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম ট্রাকটা আজকে এত সামনে চলে এলো কেন? তারা জানাল, ব্রেক কষতে কষতে ট্রাকটা একটু সামনে চলে গেছে।

আমার এখন মনে হয়, এটা বোধহয় আল্লাহরই কোনো ইশারা ছিল। নইলে আমরা যেখানে ট্রাকটা দাঁড় করাই সেখানে যদি ট্রাকটা থাকত, তাহলে কিন্তু গ্রেনেডটা ট্রাকের ভেতরেই এসে পড়ত’’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের র‌্যালি বা মিটিং আয়োজনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই নেতাকর্মীরা ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে সাধারণত অনেকগুলো গ্রুপ করা হয় এবং সে অনুযায়ী প্রত্যেক ছাদে ছাদে নেতাকর্মীরা থাকে। কিন্তু ওই দিন কোনো ছাদে কাউকে যেতে দেয়া হয়নি, পাহারা দিতে দেয়া হয়নি।

২১ আগস্টের হামলা নিশ্চিতভাবেই বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা ছিল অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে এটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে, এই হত্যাচেষ্টায় বিএনপি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এতে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে (তারেক রহমান) যে জড়িত তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

শেখ হাসিনা বলেন, এর আগে ১৫ আগস্ট মিলাদ পড়ানোর পর তিনি জানতে পারেন, ওই দিনও এমন একটি হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল।

‘পার্লামেন্টে পর্যন্ত এ নিয়ে কথা বলতে দেয়নি। কথা বলতে গেলেই মাইক বন্ধ। আর তাদের ব্যঙ্গ – আমাদের তা স্মরণে আছে।’

১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার পেছনেও জিয়া পরিবার জড়িত বলেও মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

বাংলাদেশের মাটিতে ফেরার পর থেকেই অসংখ্যবার হামলার শিকার হতে হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবার আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন। আর তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী নিজেদের জীবন বাজি রেখে তাকে রক্ষা করেছেন।