মানুষের ঘুম নষ্টকারীদের কোন ছাড় নয়- এসপি আনিসুর রহমান

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের দায়িত্বে সদ্য যোগ দেয়া মো: আনিসুর রহমান, বিপিএম, পিপিএম (বার) বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জে মাদক বিষয়ে পুলিশের জিরো টলারেন্স ভুমিকা থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমার জিহাদ ঘোষনা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে যদি কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যায় তাহলে সেই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আমি নিয়মিত মামলা রুজু করতে পিছপা হবো না।

তিনি তার আগের জেলার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার রেকর্ড  উল্লেখ করে বলেন,  যশোরে থাকতেও আমি নিয়মিত মামলা করেছি। সুতরাং এখানেও তা করবো। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে অপরাধ করে কেউ কোন ছাড় পাবে না। কেউ যদি মাদক দ্রব্য দিয়ে কাউকে ফাঁসাতে চায়, ফাঁদে ফেলতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিনতর হবো আমি।  এটা করতে যা যা আইন বা বিধি বিধান রয়েছে আমি সব প্রয়োগ করবো। ছাড় দিবো না।
সোমবার (২০ আগস্ট) যোগদানের প্রখম দিনে বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, পুলিশের কাজ জনগণের জীবন এবং সম্পদ রক্ষা করা। এই ক্ষেত্রেও আমি জিরো টলারেন্স। নারায়ণগঞ্জবাসীর জীবন ও সম্পদের উপর কেউ যদি হস্তক্ষেপ করে তাহলে আমি জিরো টলারেন্স হিসেবে কাজ করতে চাই।

পুলিশের ভাষায় একটি কথা আছে ক্রাইম এ্যাগেনেস্ট প্রাপার্টি অর্র্থাৎ ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি এসমস্ত কর্মকান্ডে কোন ছাড় দেয়া হবে না। এগুলো ছাড় দিলে অপরাধ বাড়তে থাকে। তাই ক্রাইম এ্যাগেনেস্ট প্রাপাটির ক্ষেত্রে কোন প্রকার ছাড় দেই নি, দিবো না।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, আমি সেই চেষ্টা করে যাবো।  নগরীর শান্তি -শৃঙ্খলা ও মানুষের ঘুম নষ্টকারীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা চাই। আপনারা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। কোন প্রকার অভিযোগ থাকলে আমাকে সরাসরি জানাবেন। আমি ব্যবস্থা নিবো।

এছাড়া পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও যদি কোন অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আমি কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির ব্যবস্থা করবো।থাকবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যাতে অন্য পুলিশ সদস্যরা বুঝতে পারে এই অপরাধ করলে এই শাস্তি হয়। সুতরাং এই অপরাধটা দ্বিতীয়বার করার সাহস করবে না। কারণ যশোর জেলায় অনেক পুলিশ সদস্যের চাকরী গেছে। সকালে মিটিংয়ে আমি আমার দপ্তরে সহকর্মীদের এই ম্যাসেজ দিয়ে দিয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার ২১ আগস্ট) পুলিশ লাইনে কথা বলবো। সেখানে আমি আমার ফোর্সদের একই ম্যাসেজ দিয়ে দিবো।

তিনি বলেন, চেক পোস্টের নামে এবং বিভিন্ন অজুহাতে মানুষকে ধরে এনে হয়রানি করা, এ সমস্ত জিনিস চলবে না। মানুষকে জিম্মি করা মোটকথা যত ধরনের নেগেটিভ কর্মকান্ড আছে, কোনভাবেই কোন প্রকার নেগেটিভ কর্মকান্ড করতে দেয়া হবে না। নেগেটিভ কর্মকান্ড মানুষের সম্মান বাড়ায় না। মানুষের সম্মানহানী করে। যে কাজ করলে সম্মানহানী হয় সে কাজটি করতে আমি আমার ফোর্স ও অফিসারদের আদেশ দিবো না। আমি আদেশ দিবো যে কাজটি করলে দেশের উপকার হয়, সমাজের উপকার হয়, পুলিশের ভাবমূর্তি বাড়ে সেই কাজটি করার জন্য আমি বলবো।

মতবিনিময় সভায় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোহাম্মদ নূরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. ফারুক হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. আবদুর রশিদ, সহকারী পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা প্রমুখ।