মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মান্দায় হরিবাসরের প্রস্তুতিমুলক সভায় নতুন কমিটি গঠন নিয়ে মতবিরোধে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বুড়িদহ বাজারে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

আগামী বুধবার (১৮ নভেম্বর) হরিবাসর উপলক্ষে শামুকখোল-বটতলা রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটি এ প্রস্তুুতিমুলক সভার আহবান করেছিল।

আহতরা হলেন, বুড়িদহ বাজারের রনজিৎ চৌধুরী, সুজন চৌধুরী, গোপাল চৌধুরী, দিপংকর চৌধুরী এবং ফারুক হোসেন। এছাড়াও শামুকখোল গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র প্রামানিক হাবল, স্মরণ কুমার, প্রভাষ চন্দ্র প্রামানিক, পলাশ কুমার এবং ভবেশ চন্দ্র আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে রনজিৎ চৌধুরী (৫২), সুজন চৌধুরী (২৮), গোপাল চৌধুরী (২৭), ফারুক হোসেন (৩৫) ও দিপংকর চৌধুরীকে (২৮) উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওইাদন রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ২ নভেম্বর শামুকখোল-বটতলা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে সুবাস প্রামানিককে সভাপতি, সুজয় প্রামানিককে সাধারণ সম্পাদক ও মলয় ঘোষকে ক্যাশিয়ার করে ৩ বছর মেয়াদী নতুন কমিটির গঠন করা হয়। আগামী বুধবার হরিবাসর উপলক্ষে এ কমিটি প্রস্তুতিমুলক সভার আহবান করে। ওই সভায় গঠিত নতুন কমিটি নিয়ে আগত কতিপয় ব্যক্তি বাজে মন্তব্য করলে একটি পক্ষ সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। এনিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বুড়িদহ বাজারে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা বুড়িদহ বাজারের মুদিদোকানি ফারুক হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার দোকানের মালামাল ভাঙ্চুরসহ মোবাইলফোন ও টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী ফারুক হোসেনের পরিবার।

এ ঘটনায় সনজিত কুমার চৌধুরী বাদি হয়ে মান্দা থানায় প্রতিপক্ষের সুবাস প্রামানিক, শ্যামল সরকারসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দাখিল করেছেন।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান এক পক্ষের এজাহার প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অন্যপক্ষ এখনো মামলার এজাহার দাখিল করেননি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় হিন্দু কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ কাজ করছেন।