নদীর দিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কাদঁলেন সিরাজ বেপারী

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  খবর পেয়ে গ্রামের বাড়িতেই মাথা ঘুরে পড়ে যান সিরাজ বেপারী। এক পর্যায়ে রাতেই রওয়ানা দেন ফতুল্লার উদ্দেশ্যে। বুড়িগঙ্গা পাড়ে শেষ রাতের নিস্তদ্ধতা ভেঙ্গে যায় সিরাজ বেপারীর কান্নায়। ভারী হয়ে উঠে বুড়িগঙ্গার বাতাস। নদীর দিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি।

এদিকে সকালের দিকে একে একে ভেসে উঠে মৃত গরু। সেই সঙ্গে ভেসে উঠে লঞ্চের ধাক্কায় উল্টে যাওয়া ট্রলারও।

টাঙ্গাইলের পাকুল্লা এলাকার  সিরাজুল ইসলাম।  সিরাজ বেপারী হিসেবেই যিনি পরিচিত।  গ্রামের ছোট ছোট খামারী ও গৃহস্থদের পালিত গরু সংগ্রহ করে নিজের জিম্মায় হাটে আনেন। পরে বিক্রি করে নিজের লাভের অংশ রেখে যার যার টাকা ঈদের পর বুঝিয়ে দেন। এভাবেই অনেক বছর ধরে টাঙ্গাইল থেকে তিনি গরু নিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ডিআইটি মাঠ কুরবানীর হাটে।

এবারো এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তিনটি ট্রলারে করে ৮১টি গরু পাঠান ফতুল্লার হাটে।

শনিবার সন্ধ্যায় তিনটি ট্রলার ফতুল্লা লঞ্চ ঘাটে ভেড়ার আগেই ২৯টি গরু বোঝাই একটি ট্রলার বরিশালগামী যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় বড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যায়। গরুর সঙ্গে ট্রলারে থাকা কয়েকজন নদীতে পড়ে যায়। তারপরও জীবন বাজি রেখে ৫টি গরুর রশি কেটে দিতে সক্ষম হন তারা। কিন্তু তলিয়ে যায় ২৪টি গরু।

ফতুল্লা হাটে বাকী গরুগুলো বিক্রি করার অপেক্ষায় আছেন সিরাজ বেপারী ।

তিনি জানান, অনেক বছর ধরে গরু আনি। এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। আমি তো শেষ হয়ে গেলাম। কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কাউকেই টাকা দেইনি। বলেছি গরু বিক্রি করে টাকা দিবো। গ্রামের সবাই আমাকে বিশ্বাস করে গরু দিয়েছে। এখন আমি এতো টাকা কোথা থেকে দিবো। চোখ ভিজে আসে সিরাজ বেপারীর।

চোখ মুছতে মুছতে বলেন, লঞ্চ মালিক যদি ক্ষতিপুরন দেয় তাহলে রক্ষা। না হলে আমার উপায় নাই। তাছাড়া যাদের গরু নিয়ে এসেছি তারাও তো ছেলে-পুলে নিয়ে ঈদ করবে এমন আশায় রয়েছে। এখন কাকে কিভাবে বুঝাবো কিছুই বুঝতেছি না।