ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শহিদুল। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কখনো ট্রেনে, কখনো বাসে, কখনো হাটে বাজারে আবার কখনো মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পরিবারের সন্তান সন্ততিদের মুখে দুইবেলা দুইমুঠো খাবার তুলে দিতেন। আর স্বপ্ন দেখতেন তার বড় ছেলে রাকিবুল ইসলাম ও মেঝো মেয়ে শুর্মিলাকে নিয়ে। নিজে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও তার স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া।

এরই ধারাবাহিকতায় বড় দুই সন্তানকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে শহিদুল অনবরত হাত পেতেই চলছিলেন ।

হাত পেতেই পেতেই বড় ছেলে রাকিবুল ইসলাম তোলারাম কলেজে বিএ ক্লাসে এবং মেয়ে শুর্মিলাও একই কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাস পর্যন্ত টেনে আসছিলেন। তার অন্য দুই সন্তান আলামিন ও মিম এখনো অনেক ছোট।

কিন্তু করোনা কালীন সময়ে দেশে লকডাউনে প্রতিবন্ধী শহিদুলের পরিবারে চরম অভাব অনটন দেখা দেয়, সরকারি ত্রান সহায়তা যা পেয়েছে তা দিয়ে কোনমতে চললেও
ছেলেমেয়ের পড়াশুনার খরচ চালাতে গিয়ে যখন হিমসিম খেয়ে মিরুর দ্বারস্থ হন। মিরুর নিকট তুলে ধরেন তার স্বপ্নের কথা।

সবদিক বিবেচনায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শহিদুলের পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মিরু।

মানবিক মীর হোসেন মিরু শহিদুলের ছেলেমেয়েরা যেনো আলোকিত মানুষ হয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবার মুখে হাসি ফোটাতে পারেন সেলক্ষ্যে শহিদুলকে একটি টং দোকান ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য নগদ অর্থের আশ্বাস দেন মীরু।

সোমবার(৯ নভেম্বর) বাদ জোহর পাগলা রেলষ্টেশন এলাকার সেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শহিদুলের জন্য একটি টং দোকান ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন মিরু।