বিশেষ প্রতিনিধি,(আজকের নারায়নগঞ্জ): যুব সমাজের নয়নমনি, সাবেক নারায়ানগঞ্জ শহর আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত গোলাম সারোয়ারের ৫ম মৃতুবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদ, নারায়ানগঞ্জ জেলা ও মহানগরের আয়োজনে সৈয়দপুর কড়ইতলায় এক স্মরন সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

স্মরন সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদ, নারায়ানগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক- বাবুল মোল্লা এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সস্থার মহানগর সভাপতি হামদান-উর-রহমান শান্ত।

উক্ত স্মরন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আসন গ্রহন করেন নারায়ানগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক- এড.আবু হাসনাত মোঃ শহিদ বাদল, বিশেষ অতিথি হিসেবে আসন অলংকিত করেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদ, নারায়ানগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক এইচ.এম রাসেল, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি অসিম সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক-মিরাজ রহমান পলিন, ৯৬’র অসহযোগ আন্দোলনের সৈনিক নির্মল রায় গোসাই, সুব্রত ভৌমিক কুটু, মোঃ আক্তার,গোলাম সারোয়ার ট্রাষ্টের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এছাড়াও গোগনগর ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদ রানা, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদ জেলার সদস্য সচিব জে.আর.রাসেল আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন আকুল, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, এইচ.এম ফয়সাল, মহানগর সহ-সভাপতি – অজিত সাহা, মহানগর সাধারন সম্পাদক, সালাউদ্দিন মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক,গোলাম নবী মাসুদ, আলমগীর, রমজান মোল্লা, রাকিব, অনিক, সালাউদ্দিন, ইয়াসিন চৌধুরী, কাবিদ, মতিন মিয়াসহ অরোও অনেকেই উপস্থিত ছিল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহানগর মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদের সভাপতি হামদান-উর-রহমান শান্ত সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া পাঠের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের শুরু করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিপ্লবী নেতা আবু হাসনাত শহিদ বাদল শুরুতেই বলেন,মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদের আহবায়ক,এইচ.এম রাসেল ও মহানগর সভাপতি, হামদাদ উন শান্ত’র ভুয়সী প্রশংসা করে নতুন এই সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য।

তিনি প্রয়াত গোলাম সারোয়ার স্মরনে স্মৃতিচারন করে বলেন, আমি সর্বপ্রথম গোলাম সারোয়ারের রূহের মাগফিরাত কামনা করে নারায়নগঞ্জের রাজনৈতিক অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন জোর করে নেতা হওয়া যায় না, কিংবা জোর করে ভালোবাসাও পাওয়া যায় না।প্রকৃত ভালোবাসা পেতে হলে ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করে নিতে হয়। গোলাম সারোয়ার ছিলেন সেই রকম ত্যাগী নেতা ও আমার সুখ দুঃখের সহযোদ্ধা আমি তার প্রতি গভীর শোক এবং শ্রদ্ধা জানাই।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন আওয়ামীলীগের মিছিল মিটিংয়ে ছিলো তার অবাধ বিচরন। সারোয়ার ছাড়া মিটিং মিছিল অসম্পুর্ন থাকত।সেই সারোয়ার আজ আমাদের মাঝে নেই,তবুও তার স্মৃতি বিচরন করছে আমাদের আপনাদের সকলের মাঝে। সারোয়ার আছে থাকবে চিরকার সবার মাঝে। তিনি সারোয়ারকে স্মরণ করে কেদে ফেলে বলেন, একবার ততকালীন পুলিশ আমাকে জেলে নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু আটকে রাখতে পারেনি, বিশহাজার ছাত্র/ছাত্রী আর গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্ব,আমাকে ছাড়তে বাদ্য করে ছিল।

এখন আপনারা শামীম ওসমানের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তখন তাকিয়ে থাকতেন এই সারোয়ারের দিকে। সে বেচে থাকবে আমাদের স্মৃতিতে।

শোকসভায় বিশেষ অতিথী মহানগর আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিপ্লবী নেতা জাকিরুল আলম হেলাল তার বক্তব্যে বলেন,আমার ভাই প্রয়াত গোলাম সারোয়ার কতোটা জনপ্রিয় ছিলেন তা আমরা বুঝতে পারলাম তার মৃত্যুর পরে,বুঝলাম কতটা ভালোবাসার পাত্র ছিলো সে সকলের। গোলাম সারোয়ারকে স্মরণ করে তিনি বলেন আমার ভাই এমপি শামিম ওসমান ভাইয়ের সহযোদ্ধা। তাই শামীম ওসমান ভাই যদি আগ্নেয়গিরি হয়, বাদল ভাই হচ্ছে সেই পাহাড়।

তিনি আরও বলেন,আমি দেখেছি বাদল ভাইয়ের রক্তচোখ, আমি শুনেছি বজ্রকন্ঠী শ্লোগান, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরিনাম বাংলা হবে ভিয়েতনাম, এমন শ্লোগানে মুখরিত হত আকাশ বাতাস চারদিক, তারই নেতৃত্ব ছিলো
আমার প্রান প্রিয় বাদল ভাই এবং তারই সহযোদ্ধা ছিলেন আমার গোলাম সারোয়ার ভাই।
সারোয়ার ভাই ছিলেন মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এক নেতা, আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন, সে বেচে থাকবে আপনাদের সকলের ভালোবাসায়। আমরা সকলে তার আত্নার মাগফিরাত কামনা কামনা করছি।

এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদ, নারায়ানগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক এইচ.এম রাসেল বলেন,উক্ত স্মরণ সভায় শ্লোগানের মধ্য দিয়ে (কে বলেছে গোলাম সারোয়ার ভাই নাই, সারোয়ার ভাই মোদের হেলাল ভাই) তার এই শ্লোগানে গোটা স্মরন সভা মুখোরিত হয়ে উঠে। তার বক্তব্যে তিনি বলেন সবাই বলে প্রয়াত গোলাম সারোয়ার ভাই ছিলো হিরো, আর আমি বলি সে ছিল সুপার হিরো বলে সে ব্যাখা দেন।
আমরা তার সুযোগ্য হেলাল ভাইয়ের মধ্যেই গোলাম সারোয়ার ভাইকে খুজে পাই।

এছাড়াও স্থানীয় আআওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা উপস্থিত থেকে স্মরণ সভায় প্রয়াত গোলাম সারোয়ারের স্মৃতিচারন করেন। শেষে কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করা হয়।