আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ অবশেষে রূপগঞ্জ তারাবো পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক কাজী রাজনকে সরিয়ে ১ম যুগ্ম আহবায়ক মাজহারুল ইসলাম রাজিবকে আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজন বিবাহিত এ ধরনের ছবিসহ সংবাদ প্রকাশের পর এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন কমিটি নিয়ে বিতর্কের সংবাদে ছাত্রদলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি মশিউর রহমান রনি গনমাধ্যমকে বলেন, কাজী রাজনের নামের প্রিন্টিংয়ের কারণে তারাবো পৌর ছাত্রদলের একটা মিসটেক হয়েছে । আমরা তা সংশোধন করে কাজী রাজনকে ছাত্রদলের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি ।

ফতুল্লা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে রনি বলেন, ঠিক এমনটি যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে তবে তার বিরুদ্ধে অনুরূপ ব্যবস্থা নেয়া হবে । যারা পদ পান নাই তারাই হয়তো এমন মিথ্যে তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে যাচ্ছে । আর রিয়াদ আহমেদসহ সকলের সার্টিফিকেট বারবার যাচাই বাছাই করেই পদায়ন করা হয়েছে । আর আমার নিজ থানা এলাকার কমিটি নিয়ে বিতর্ক হবে তা কি কেউ চাইবে ? আর আমাদের এই কমিটি নিয়ে বিতর্ক করতেছে পদ বঞ্চিত কেউ কেউ।

এর আগে ২ নভেম্বর জেলার ৮টি ইউনিটের ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর পরই রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌর ছাত্রদলের নতুন আহবায়ক কমিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এ কমিটির আহবায়ক কাজী রাজন বিবাহিত বলে দাবি করেছে ছাত্রদলের একটি অংশ রাজনের বিয়ে সংক্রান্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

এমন বিতর্কের পাশাপাশি এবার ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে ফতুল্লা থানার সদস্য সচিব হয়েছেন রিয়াদ আহমেদ নামে এক ছাত্রদল কর্মী । এমন অভিযোগ সেই বিতর্কে নয়ামাত্রা যোগ করে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, ছাত্রদলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রনির একান্ত লোক হওয়ার কারনে ৮ম শ্রেনীও পাস করে নাই এমন লোককে অন্য একজনের সার্টিফিকেট দিয়ে বিশেষ ক্ষমতায় রনি রিয়াদ আহম্মেদকে এই পদে আসিন করেছেন।
আরো অভিযোগ হচ্ছে, ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিয়াদ আহম্মেদ মাদকাসক্তির কারনে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসাও নিয়েছেন। এছাড়াও তার বিবাহিত হওয়া ও তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার কথাও ছাত্রদল কর্মীদের কাছে জানা যায়।
পাশাপাশি মোটা অংকের অর্থের লেনদেনের বিনিময়ে রনি তাকে সাংগঠনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সদস্য সচিব করে আনেন।

একই সাথে রেমন রাজিব নামে আরেকজনকে রনি ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহব্বায়ক কমিটিতে সদস্য পদ দিয়েছেন যে ব্যাক্তির এস.এস.সি পরিক্ষার সার্টিফিকেট নাই। সে সম্পর্কে মশিউর রহমান রনির বেয়াই সেই কারনেই রনি তাকে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলে সদস্য করেছেন।
এছাড়াও ফতুল্লা থানা ছাত্রদলে রনি ক্ষমতাবলে নিজের আপন ভাগিনা ও প্র‍য়াত সৈনিক লীগ নেতা মোখলেসুর রহমানের ছেলে ইয়াসিন আরাফাতকে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহব্বায়ক করেছেন।
জানা যায় ইয়াসিন আরাফাত কখনোই ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না।
কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরেই রনি নিজের ভাগিনাকে পদায়ন করার জন্য ইয়াসিন আরাফাতকে দিয়ে কিছু রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছা ও কেক কাটার মত প্রোগ্রামে ফটোসেশান করিয়ে তার রাজনৈতিক প্রফাইল তৈরী করেছেন।।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর গঠিত ফতুল্লা থানা ছাত্রদলে এসব ছাড়াও অসংখ্য অসংগতি আছে বলে ছাত্রদলের সর্বস্তরের কর্মীদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের এক নেতা জানান আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ার কারনে রনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ মহলকে খুশি করার জন্য কৌশলে ছাত্রদলের নিবেদিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মাইনাসে করে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করেছে।
তবে পদবঞ্চিত নেতা ও তার হতাশাগ্রস্ত প্রতিপক্ষ এমন প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বলে সকল অভিযোগ উড়িয়ে দেন মশিউর রহমান রনি।