টেনু গাজীকে সতর্ক করলেন ওসি মঞ্জুর

 

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): ফতুল্লায় ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে জোরপূর্বক ৬৫টি গরু নামিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠেছে তালতলা হাটের ইজারদারদের বিরুদ্ধে। এসময় গরুর ব্যাপারীদের মারধর করে জখম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বুড়িগঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার সংবাদে ফতুল্লা থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ্ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহজালাল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সেখান থেকে সটকে পড়েন কুতুবপুর ইউনিনের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি মেম্বার  আলাউদ্দিন হাওলাদার।

ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন,ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ইজারাদার টেনু গাজী। একই সাথে এ ব্যাপারটি তাঁদের ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন। তবে পরবর্তীতে এমন ঘটনা আর ঘটাবে না বলেও তাঁরা নিশ্চিত করেন। পরে তাঁকে সর্তক করে দেয়া হয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন,গরু নিয়ে ব্যাপারীরা যাঁর যেখানে ইচ্ছে সেখানে যাবে, তাঁরা তাঁদের স্বাধীনতা মতো গরু যে কোনো হাটে নামাবে। এখানো কোনো জোর বা মারধর করা হলে কাউকে কোনো ধরণের ছাড় দেয়া হবে না।

সূত্র জানায়, ফরিদপুর থেকে ৬৫টি গরু নিয়ে ৬ ব্যাপারি যাচ্ছিলো ঢাকার নয়া বাজার হাটে। পথিমধ্যে পাগলা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে কুতুবপুর ইউনিয়ণের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদার দলবলসহ বেপারীদের আটকে মারধর করে ৬৫টি গরু তালতলা হাটে নামিয়ে রাখে। এসময় তাঁদের মারধরে ৩ ব্যাপারী রক্তাক্ত জখমও হয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এই হাটের লিখিত  ইজারাদার পাগলা বাজার বহুমুখী সমিতির সভাপতি টেনু গাজী এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে  কুতুবপুর ইউনিয়ণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদার। তাঁরা দুজনই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি হিসেবে স্থানীয় ভাবে পরিচিত। পুরো হাটজুড়ে তাঁদের কাছে রয়েছে একাধিক ওয়্যারলেস সেট। এসব ওয়্যারলেস সেট দেখিয়ে তাঁরা ব্যাপারীদের কাছে নিজেদেরকে পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে থাকে বলেও জানা গেছে।

গরুর বেপারীরা জানায়, ফরিদুপুর থেকে একত্রিত ৬ বেপারী একটি ট্রলার ভাড়া করে ৬৫টি গরু নিয়ে ঢাকার নয়া বাজার হাটে যাচ্ছিলো। তাঁদের মধ্যে শেখ শফি ব্যাপারীর ১৩, মোতালেব ব্যাপারীর ১১, সাহেব ব্যাপারীর ২২, আবুল ব্যাপারীর ১৩, ফজল ব্যাপারীর ৯, ইস্কেন ব্যাপারীর ১০ টি গরু ছিলো। তাঁরা প্রতিবছরই ফরিদপুর থেকে গরু নিয়ে রাজধানীর  নয়া বাজার হাটে যান। কিন্তু এবার তাঁদের দলীয় প্রভাব বিস্তার করে আটকে রেখে মারধর করে গরুগুলো জোরপূর্বক তালতলা হাটে নামিয়ে রাখা হয়।

মারধর করে গরু নামিয়ে রাখার পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে হাট ইজারাদার টেনু গাজী  বলেন, এমন কোনো ঘটনা এখানে ঘটেনি। আর আমি ছিলাম না। তাই এ ব্যাপারে কিছু জানিও না।

তাহলে ফতুল্লা থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) কেন আপনাকে সর্তক করেছেন, এমন প্রশ্ন করলে ব্যাপরটি তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পাল্টা আরও কিছু প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,তিনি (ওসি) সর্তক করেছেন যাতে এমন ঘটনা না ঘটে। এর অর্থ এই নয় যে এখানে এ ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও আলাউদ্দিন হাওলাদারের নেতৃত্বে এই কাজটি হয়েছে, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সে ইজারাদার নন, আওয়ামী লীগ নেতা। সে হিসেবে তিনি আমাদের সাথে আছেন। আমাদের দলীয় হাইকমান্ড এই হাটটি আমাদের দিয়েছেন যাতে করে সবাই দুই এক পয়সা নিতে পারেন।

এক পর্যায়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো দলীয় হাই কমান্ড কে, এমন প্রশ্ন করার পর এলোমেলো ভাবে তিনি একবার জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কথা বলেন তো আরেকবার থানা আওয়ামী লীগের নেতাদের কথা বলেন। কিন্তু সঠিক ভাবে কোনো উত্তর না দিয়ে বারবার তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে বলেন,আপনার এতো প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারবো না। আমি এখন কালেকশনে আছি, ব্যস্ত আছি বলে ফোনটি কেটে দেন।