আনিসুজ্জামান অনুঃ সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে হতে যাচ্ছে সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচন। এ মাসেই সম্ভাবনা রয়েছে তফশিল ঘোষনার। নির্বাচন কমিশনের ইঙ্গিতে এমনটাই আভাস মিলছে।

এদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হবার আশায় অনেকেই মাঠে নেমেছেন । আগ্রহী প্রার্থীরা নিজেদের পরিচিত তুলে ধরতে ইতিমধ্যে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন,দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। নিজেদের বলয় পোক্ত করতে নেতাকর্মী ও জনগণকে সম্পৃক্ত করার কাজটি করছেন আবার নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতেও কাজ করছেন তারা।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে ভোটার-প্রার্থীসহ পুরো সোনারগাঁবাসীর দৃষ্টি এখন শিল্পপতি সিআইপি ফেরদৌস ভূঁইয়া মামুনের মতবিনিময় সভার দিকে। ২৭ হাজার ভোটের জন্যে এক প্রার্থীকে সমর্থনের বিষয় নিয়েই তার এ মতবিনিময়।

অতীতে তিনি আড়ালে থেকে মেয়র সাদেকুর রহমানকে নির্বাচনে সহযোগীতা করলেও এবার তিনি প্রকাশ্যেই নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। আগামী ৬ নভেম্বর তার গোয়ালদি এলাকার বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

শিল্পপতি ফেরদৌস ভূইয়া মামুনের বাসায় বৈঠক

শিল্পপতি মামুন বলেছেন, দুইটি নির্বাচন সাদেক সাহেবকে নিয়া করছি তখন যতরকম পেশীশক্তি চেষ্টা করেছে,আলহামদুলিল্লাহ সাকসেস হয় নাই। সাকসেস হ্ইছে জগনের শক্তিই। আর প্রশাসনতো আছেই। প্রশাসন তাদের নিয়মেই চলছে। আর ২৭ হাজার যদি একত্রিত থাকে তবে কোন পেশী শক্তিই কোন কাজ হবে না।

এ ছাড়াও রয়েছে জেলার প্রভাবশালী রাজনীতিক এমপি শামীম ওসমানের পাশাপাশি স্থানীয় হাসনাত পরিবার,কালাম,বীরুদের হস্তক্ষেপ। রয়েছে জাপা এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার আবদার।

ইতিমধ্যে সোনারগাঁও পৌর নাগরিক কমিটির প্রার্থী হিসেবে ডালিয়া লিয়াকতের নাম ঘোষণা করেছেন বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া ও সাবেক মেয়র সাইদুর রহমান মোল্লা। ডালিয়া লিয়াকত জাতীয় পার্টির মনোনীত স্থানীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার সহধর্মিনী। সম্প্রতি জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের সোনারগাঁ এসে এক সমাবেশে ডালিয়া লিয়াকতকে নির্বাচনে ভোট দেয়ার আহবান জানালেও আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দেননি।

একে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ৬জন আগ্রহী মেয়র প্রার্থী। এরা হচ্ছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে গত নির্বাচনে পরাজিত জেলা আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটি ফজলে রাব্বী,তিনি নারায়ণগঞ্জ-২(আড়াইহাজার) আসনের তিনবারের আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর ভগ্নিপতি। উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি গাজী মজিবুর রহমান। তিনি ২০১১ সালে আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছিলেন।বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছগীর আহাম্মেদ।বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বদরুন্নেছা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাসরিন সুুলতানা ঝরা। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন।

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে তিন জনের নাম শোনা গেলেও তারা এখনও নির্বাচনী প্রচারণায় নামেননি। তবে এমন পরিস্থিতিতে পৌরবাসীর মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের মনোনিত প্রার্থী ও এমপি পত্নী ডালিয়া লিয়াকতের প্রার্থীতা নিয়েই?

ডা. আবু জাফর বীরু‘র চেম্বারে শামীম ওসমান

সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের রাজনীতির অন্যতম নেতা ডা. আবু জাফর বীরুর সাথে তার চেম্বারে নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নারায়নগঞ্জ জেলার রাজনীতির প্রভাশালী নিয়ন্ত্রক শামীম ওসমানের সাক্ষাতের এক ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। বিগত সময়ে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন নির্বাচনে শামীম ওসমানের প্রভাব ছিল। অনেকের ধারনা সোনারগাঁয়ের নির্বাচন নিয়েও সেখানে হয়তো আলোচনা ছিল। ডালিয়া লিয়াকতের উপরে ওসমান পরিবারের সমর্থন থাকার কথা থাকলেও রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।

এদিকে ডালিয়া লিয়াকতকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থী ঘোষনা করেছেন সাবেক মেয়র সাদেকুর রহমান। নাগরিক কমিটিও তাদের প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা করেছে এমপি পত্নি ডালিয়াকে। দীর্ঘদিন যাবত নিজ সহধর্মিনীকে মেয়রের চেয়ারে বসাতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এমপি খোকা।

মুলত নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর নৌকা প্রতীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দুই বা তিনজনের নাম চাওয়া হবে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড থেকে। উপজেলা আওয়ামীলীগ প্রার্থী বাছাই করবে। সেই প্রার্থীদের নাম জেলা আওয়ামীলীগের সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দ্রে জমা দিবে। তার আগে পৌর আওয়ামীলীগের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তবে অনেক সময় স্থানীয় পর্যায় থেকে নাম কারো না পাঠালেও সেইসব মনোনয়ন প্রত্যাশিরা কেন্দ্রীয় লবিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রে জমা দিয়ে থাকেন। অনেক সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগের পাঠানো নাম দেয়া কাউকে মনোনিত করাও হয়না। যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় মহানগর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে মেয়র আইভীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। কিন্তু আইভীর হাতেই নৌকা তুলে দেয়া হয়েছিল।

অপরদিকে প্রতীক পেলেই যে প্রার্থীর চেয়ার নিশ্চিত অনেক সময় তা হয়ে উঠে না। উদাহরন বিগত সোনারগাঁ পৌরনির্বাচনে ফজলে রাব্বির হাতে নৌকার বৈঠা উঠলেও মেয়রের চেয়ারে আসীন হয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদেকুর রহমান।

পৌরবাসী তাকিয়ে আছে মনোনয়ন কার হাতে এবং পৌরমেয়রের চেয়ারে বসবে কে?