সোনারগাঁ(আজকের নারায়নগঞ্জ): মুহুর্তেই যেন ধ্বসে পড়ছে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের রামরাজত্ব। কথায় বলে পাপে ছাড়ে না বাপেরে। অপকর্মের খেসারত একদিন না একদিন দিতে হয়, আর প্রভাব চিরদিন স্থায়ী নয়।

এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের শিল্পনগরী মেঘনাঘাটে অবৈধভাবে দখল করে রাখা মদিনা গ্রুপের টাইগার সিমেন্ট কোম্পানির অভ্যন্তরে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

তবে স্থাপনা খুবই ভারী এবং শক্তিশালী হওয়ায় সেটা ভাঙ্গতে বেকুতে সমস্যা হওয়ায় পুরোপুরি উচ্ছেদ সম্ভব হয়নি। ফলে ২ বছর যাবত অবৈধ দখলে রাখা ১৪ বিঘা সরকারী ছেড়ে দিতে ৩দিনের সময় বেধে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

রোববার(১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনাঘাটে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন এ উচ্ছেদ অভিযান চালান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও পুলিশ সদস্যরা।

এ সময়ের মধ্যে দখল ছেড়ে না দিলে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন।

তিনি বলেন, মদিনা গ্রুপের দখলে থাকা প্রায় ১৪ বিঘা সরকারি সম্পত্তি চিহ্নিত করেছি আমরা। কিছু অংশ উচ্ছেদ করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে সব উচ্ছেদ সম্ভব হয়নি।

আল মামুন জানান, হাজী সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা গ্রুপের অবৈধ যতগুলো স্থাপনা
ছিল সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। সিমেন্ট কারখানার দু’পাশে একটায় আছে ২ দশমিক ১১ একর, আরেকটায় ১ দশমিক ৮ একর, টোল প্লাজার ডান পাশে ১ দশমিক ২০ একরসহ এই মোট ৪ দশমিক ৩৯ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। দখলকৃত এই জমি প্রায় ১৪ বিঘার সমতূল্য। সম্পূর্ণ জায়গাটিকে আমরা চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে ২ দশমিক ১১ একর পরিমাণের দুইটি জায়গায় আমরা তিনটি স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছি। বাকি একটি স্থাপনা খুবই ভারী এবং শক্তিশালী হওয়ায় সেটা ভাঙ্গতে ভেকুতে সমস্যা হয়েছে। যে কারণে আমরা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দেই।

২০১৮ সালে বালু ভরাট করে এই খাসজমি দখল করা হয় বলে জানা গেছে। সেই সময় জেলাও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি জমি চিহ্নিত করে লাল পতাকা টানিয়ে দেন। কিন্তু প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই পতাকা তুলে ফেলে জমির চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে হাজী সেলিমের লোকজন। এই ঘটনায় সরকারি খাসজমি দখলমুক্ত রাখতে সে সময় উপজেলা ও জেলা প্রশাসন হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপকে একাধিকবার উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। দখল করা সম্পত্তি স্থায়ী বন্দোবস্ত পেতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের বরাবর চিঠি দিয়েছিল হাজি সেলিম। কিন্তু ওই আবেদনে সাড়া দেয়নি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাজী সেলিমের দখলকৃত সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছি। তাদেরকে সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।