অবশেষে ২১টি মৃত গরু ভেসে উঠলো বুড়িগঙ্গায়!

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): ফতুল্লার বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় গরুবোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনায় সর্বশেষ সংবাদে ৭টি গরুসহ ৭ বেপারীকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। বাকী ২২টি গরু মারা গেছে। মৃত গরুগুলো ১৯ আগষ্ট রোববার সকালে কাওটাইল গোবিন্দের ডকইয়ার্ডের সামনে ভেসে উঠতে দেখা গেছে।

ট্রলার বালকহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান মাষ্টারের ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট দেয়া সচিত্র স্ট্যাটাসে জানা গেছে,সংগঠনের সদস্যরা ট্রলার ডুবির ঘটনার প্রথম থেকেই ট্রলারের বেপারীসহ ভেসে যাওয়া গরু উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। সারারাত তারা বুড়িগঙ্গায় সন্ধান চালিয়ে ৭টি গরু ও ৭জন বেপারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তাদের ভাষ্যমতে, আহত বেপারী ও ট্রলার মাঝিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ফতুল্লা গরুর হাটে পৌছে দেন তারা।

তারা যেন এ ভাবেই অসহায়দের বিপদে পাশে থাকতে পারেন সে দোয়া কামনা করেছেন সবার কাছে।

অপরদিকে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলারটি ঘটনাস্থল থেকে কয়েক শ’ গজ দূরে রোববার দুপুরে গরু সহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। ভেসে উঠা ট্রলারে ২১টি মৃত গরু বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ক্ষতিগ্রস্থ গরু ব্যবসায়ীদের দাবি, আরো তিনটি গরু নিখোঁজ রয়েছে। তাদের এই গরুর মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ গরু ব্যবসায়ীরা এ দূর্ঘটনার জন্য দায়ী লঞ্চ এম ভি ধুলিয়া-১ এর মালিকের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

ওসি মঞ্জুর কাদের আরো জানান, বুড়িগঙ্গার জলসীমা কেরানীগঞ্জ থানার আওতাধীন হওয়ায় এই ঘটনার মামলাটিও কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল থেকে ২৯টি গরু ও ৯ জন বেপারী নিয়ে ট্রলার ফতুল্লা গরুর হাটে আসার পথে ফতুল্লা লঞ্চঘাট সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে যাত্রীবাহি লঞ্চ এমভি ধুলিয়া-১ ও এমভি আওলাদের প্রতিযোগিতার সময় লঞ্চের ধাক্কায় উল্টে যায়।

ঘটনার পরপর এমভি ধুলিয়ার-১ এর মাষ্টার ফারুক হোসেনসহ লঞ্চটিকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ আটক করলেও অপর লঞ্চ এম ভি আওলাদ-৭ দ্রুত ঘাট ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে লঞ্চ মালিক ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে দূরপাল্লার যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিআইডব্লিউটিএ’র মধ্যস্থতায় রাতেই ছেড়ে দেয়া হয় আটককৃত লঞ্চ ও মাষ্টার ফারুক হোসেনকে।