সোনারগাঁয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী দখলের অভিযোগ

সোনারগাঁ(আজকের নারায়নগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ হোসেনের বাড়ির
একাংশের ভিতরে গিয়ে খালেদা বেগম নামের এক মহিলা বাড়ি নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ হোসেন অভিযোগ করেন, সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়ায় তার বাড়ির কয়েক ফুট ভিতরে গিয়ে টিনের চালা কেটে খালেদা বেগম পাকা বাড়ি নির্মাণ করছে। খালেদা বেগমের চাচাত ভাই যুবলীগ সমর্থক হওয়ায় প্রশাসনকে প্রভাব খাটিয়ে এ বাড়ি নির্মাণ করছেন বলে মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ হোসেনের অভিযোগ।

জামসেদ হোসেন অভিযোগ করে আরো জানান, খালেদা বেগম বাড়ির সামনে যে রাস্তা রয়েছে সেখানে পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী জায়গা ছাড়তে গিয়ে তার ভবন পেছনে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু পেছনে তিনি ভবনের আয়তন ছোট না করে তার বাড়ির ভিতরে ঢুকে
গিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ দুই পক্ষকে ডাকে।
সেখানে খালেদা বেগম আড়াই লাখ টাকা ক্ষতিপূরন দেবেন বলে স্বিকার করে আসেন। কিন্তু পরে এ টাকা না দিয়েই তার জায়গার ভেতরে কয়েক ফুট ঢুকে বাড়ি নির্মাণ করছেন।

অভিযোগ অস্বিকার করে খালেদা বেগম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ হোসেনকে জানিয়েই তিনি ভবন নির্মাণ করছেন। মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ হোসেনকে আড়াই লাখ টাকা ক্ষতিপূরন দেয়ার কথা তিনি স্বিকার করেন। তবে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ ও তার আরো দুই ভাইয়ের সাথে এ আপোষের ব্যাপারে কথা হয়। কিন্তু পরে মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ একা এ ক্ষতিপূরনের টাকা দাবী করায় তিনি টাকা দিচ্ছেন না।

খালেদা বেগমের চাচাত ভাই নাজমুল হাসান মানিকও নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বিকার করেন। তিনি কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করছেন না বলে দাবী করেন।

মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ হোসেন আরো অভিযোগ করেন তার ছোটভাই মফিজুর রহমান সোহেলের উস্কানিতেই তার বাড়ির একাংশ দখলের এ ঘটনা ঘটছে। সে সম্প্রতি সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসার ঐ সনদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জামসেদ হোসেনের বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগে মামলা করে।

অভিেেযাগের ব্যাপারে জানতে মুক্তিযোদ্ধা জমসেদের ভাই যুবদল নেতা মফিজুর রহমান সোহেলের বাসায় গেলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিথ্যা অভিযোগ করে থাকলে আদালত-ই তার বিচার করবে। তিনি অভিযোগ করেন তার ভাই-ই উল্টো তাকে মানুষ দিয়ে হুমকি দেয়াচ্ছে।

এসব ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধার উপর কোনো ধরনের অন্যায় যাতে না হয় তা অবশ্যই আমরা দেখবো। তবে আমি থানায় নতুন আসায় ঘটনাটি জানিনা। আমি দু’পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।