সারাদেশে চলমান অস্থিরতার দায় ক্ষমতাসীন আ‘লীগকেই নিতে হবে-চরমোনাই পীর

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): গুম-খুন, শিশু ও নারী হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন, বিচার বহির্ভূত হত্যা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও সারাদেশে চলমান অস্থিরতার দায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় ফতুল্লা ভূইগড় ফোর স্টার কমিউনিটি সেন্টারে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার “ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২০” এ বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে চরম কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগ সরকার আরও অধিক ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী রুদ্রমূর্তি নিয়ে আবির্ভুত হয়েছে। আওয়ামী দুঃশাসনের সর্বগ্রাসী যাঁতাকলে জনগণ আজ নিস্পেষিত ও বিপর্যস্ত। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়-ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে একদলীয়
ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য সমগ্র জাতিকে সরকারের মদদপুষ্ট দলীয় লোকদের দ্বারা সৃষ্ট সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি করেছে এবং এই সরকারের অত্যাচার-অনাচার, জেল, জুলুম, নির্যাতন, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ধর্ষক সন্ত্রাসীরা আমার দেশকে ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। সারা বাংলাদেশে তারা প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, খুন, গুমের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। আজকে কেউ যদি আওয়ামীলীগের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলে তাকেই খুন ও গুমের শিকার হতে হয়। আজকে জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল ছিল পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু রক্ষকই আজ ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। পুলিশ বাহিনী নতুন রূপে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আজকে পুলিশ বাহিনীর কাছেও আমার দেশের মা-বোন নিরাপদ নয়। ওসি মোয়াজ্জেম, ওসি প্রদীপের মতো কিছু কুলাঙ্গার আইনের লোক হয়েও বে-আইনীভাবে আমার দেশের নিরীহ মানুষদের উপর নির্মমভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে, হত্যা করছে। অসাধু পুলিশ, ধর্ষক ও সন্ত্রাসীদের হুশিয়ারি করে বলতে চাই- সাবধান হয়ে যাও। নয়তো এদেশের সাধারণ জনগণ যদি রাজপথে
নেমে যায় বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী ও ধর্ষকের ঠাই হবে না। ইনশাআল্লাহ

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এম. হাসিবুল ইসলাম দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সমালোচনা করে বলেন, অভাব আর দারিদ্র্যের কশাঘাতে আজকের জনজীবন দুঃখ ও হাহাকারে পূর্ণ। জীবন ধারণের উপযোগী প্রতিটি জিনিসের অগ্নিমূল্য। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তেল, তরিতরকারি, ফলমূল, চিনি, লবণ, গম, আটা, রুটি, বিস্কুট ইত্যাদি দ্রব্যের মূল্য আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। স্বাধীন দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বলগাছাড়া অবস্থা দরিদ্র ব্যক্তিদের পক্ষে বজ্রাঘাততুল্য। বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করছেন। সরকারকে কঠোর হাতে অতিলোভী অসাধু এসব ব্যবসায়ীকে দমন করতে হবে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য তালিকা টাঙানো এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য সব বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার যদি দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ করতে না পারে তাহলে এদেশের খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে পীর সাহেব চরমোনাইর নেতৃত্বে সরকার ও মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দূর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ বক্তার বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগ্রামী সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন জিহাদী ইশা ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের কর্মী ও দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান করে বলেন, প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, পৌরসভায় ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দূর্গ গড়ে তুলুন। যেখানেই অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও লুটতরাজ দেখবেন সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে কোনো ধর্ষক, সন্ত্রাসী ও লুটেরাদের থাকতে দিবো না ইনশাআল্লাহ।

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগ্রামী সভাপতি শিব্বির আহমাদ বলেন, স্বাধীনতা দিবসেই বাংলাদেশের জনগণ উল্লাসিত হয়ে স্মরণ করে আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা, বিজয়ের কথা। আসলে আমাদের দেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃতপক্ষে আমরা আজও স্বাধীন হতে পারিনি। আমাদের গণতান্ত্রিক কোন কাজ হয় না, শুধু বৈষম্য আর বৈষম্য। আইন সেটাও অন্ধকারে নিমজ্জিত। যদি এই হয় স্বাধীন বাংলার পরিস্থিতি তাহলে তো আগেই ভাল ছিল। এখনও কারণে অকারণে গণধোলাই খেতে হয়, মিথ্যা অপরাধে ফাঁসি হয়। ধর্ষণকারী ধর্ষণ করেও প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আজকের সম্মেলন থেকে বলতে চাই, বাংলাদেশে যদি আমার আরেকজন মা-বোন ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে সারা বাংলাদেশে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ সারোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত “ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২০” এ আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার সেক্রেটারী মাওলানা শাহ আলম কাঁচপুরী, দ্বীনী সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলার ছদর মুফতী মাসুম বিল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর কবীর, ইসলামী যুব আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলনা
শফিকুল ইসলাম, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।