বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবিঃ একে একে ভেসে উঠছে মৃত গরু

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ):  ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ২৯টি গরু নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এতে আহত হয়েছেন ৫ গরু ব্যবসায়ী। তাদের নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে ৫টি গরু উদ্ধার করা সম্ভব হলেও  ২৪টি গরু তলিয়ে যায়

শনিবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বুড়িগঙ্গা নদীর ফতুল্লা লঞ্চ ঘাট এলাকায় মর্মান্তিক   এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ী লঞ্চের মাস্টার ফারুক হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন খবর পেয়েছি নদীর ওই পাড়ে কেরানীগঞ্জ সীমানায় দুটি মৃত গরু ভেসে উঠেছে।

এদিকে ক্ষতগ্রস্থ গরুর বেপারীরা জানান, আমরাও খবর পেয়েছি বেশ কয়েকটি গরু ওই পাশে ভেসে উঠেছে। ঘটনার পর পর সাতরিয়ে তীরে কোন গরু উঠার খবর পাই নাই।

ডুবে যাওয়া ট্রলারের চালক আবদুল মান্নান ও গরু ব্যবসায়ীরা জানান, টাঙ্গাইল সদরের পাকুল্লা গ্রাম থেকে থেকে ২৯টি গরু নিয়ে গরু ব্যবসায়ীসহ নয়জন ব্যক্তি ফতুল্লার ডিআইটি মাঠে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

ট্রলারটি ফতুল্লা লঞ্চঘাটের সামনে এলে সদরঘাট থেকে বরিশালের নুরাইনপুর কালারাইয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া এমভি ধুলিয়া-১ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ৫টি গরু তীরে উঠতে পারলেও বাকী গরু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ৫জন গরু ব্যবসায়ী আহত হন।

দূর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত গরু ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে দূর্ঘটনায় কোন ব্যাক্তি নিখোঁজ রয়েছেন বলে এখনো কেউ দাবী করেনি। ট্রলার ডুবির খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লঞ্চের চালককে আটক করে।

টাঙ্গাইলের গরু ব্যবসায়ী সিরাজ বেপারীর ছেলে মনিরুল এ ঘটনার জন্য লঞ্চের চালককে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বেপরোয়া গতিতে লঞ্চটি চালানোর কারনেই এ দূর্ঘটনা ঘটেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, এম.ভি ধুলিয়া ও আরেকটি লঞ্চ বেপরোয়া গতিতে লঞ্চঘাটে এসে একই সাথে ঘাটে বেড়াতে চেষ্টা করলে মাঝখানে গরু ট্রলারটি আটকে যায়। এসময় এম.ভি ধুলিয়ার ধাক্কায় ট্রলারটি বুড়িগঙ্গায় ডুবে যায়।

তিনি জানান, এ ঘটনার জন্য দায়ী যাত্রীবাহী লঞ্চটির চালককে আটক করা হলেও পরবর্তীতে আটকে পড়া যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে লঞ্চ মালিক মুচলেকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। নিখোঁজ গরুগুলো উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়েছে। তবে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তিনি জানান, খবর পেয়েছি নদীর ওই পাড়ে মৃত দুটি গরু ভেসে উঠেছে। বাকীগুলোর খোঁজ নেয়া হচ্ছে।