উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

– শেখ সাদী খান  

মুক্তিযোদ্ধা কেছমত জোয়ার্দার বিচার পাবেন তো? 

ঝিনাইদহ আবাইপুর যমুনা সিকদার কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কেছমত আলী জোয়ার্দারের সঙ্গে যে আচরণ করছেন অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান, তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। জাতীয় শোক দিবসের আপ্যায়ন অধ্যক্ষ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বঞ্চিত করেছেন। সকল খাবার শিক্ষকরা ভাগ করে বাসায় নিয়ে গেছেন। এর প্রতিবাদ করায় অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা কেছমত আলী জোয়ার্দারের গায়ে হাত তুলেছেন। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন।

কেছমত জোয়ার্দার অপমানিত। অপমানিত বাংলাদেশ। দরিদ্র এই মুক্তিযোদ্ধার অপমানে শাহবাগে জমায়েত হয় নি। কোন মিটিং মিছিল হয় নি। কেছমত জোয়ার্দার নিজেই আরজি পেশ করেছেন শৈলকূপা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তিনি ন্যয়বিচার চেয়েছেন। কে নিশ্চিত করবে ন্যয়বিচার?

শিক্ষিত অধ্যক্ষের বিচার করা চারটে খানি কথা নয়। গরিব মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে সাক্ষী জোগাড় করাও কঠিন। হয়তো বাস্তবায়িত হবে আপস ফর্মুলা। জাতীয় শোকদিবসের দিনে বাংলাদেশের বুকে রচিত হলো আরেক কলংক তিলক। মুক্তিযোদ্ধারা হেরে গেলে হেরে যাবে বাংলাদেশ। কেছমত জোয়ার্দার হেরে গেলে জাতি হিসেবে আমাদের মাথা কোনদিন উঁচু হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

 

[লেখকঃ সংস্কৃতিকর্মী]