মসজিদে বিস্ফোরণ: তিন পক্ষের ২০ জনকে অভিযুক্ত করে শিগগির চার্জশিট

 

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটি, তিতাস গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কমর্চারীদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিন পক্ষের অন্তত ২০ জনকে আসামি করে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সূত্র। এরই মধ্যে বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদসহ সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়াও শেষের দিকে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সিআইডির প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তদন্তে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। সেগুলো সমন্বয় করেই একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও নির্ভুল তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য কাজ করছি। আমরা আশা করছি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব। যখন সব রিপোর্ট পেয়ে যাব, তখন আমরা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারব। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দেওয়া হবে।‘

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মসজিদে বৈদ্যুতিক মিটার, মসজিদের নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাস লাইন দেখার দায়িত্ব ছিল যাদের ওপর, তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা সহজে এড়ানো যেত। গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল। তাই দুর্ঘটনার দায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ওপরও বর্তায়। আবার লাইনের ওপর দিয়ে মসজিদ নির্মাণের দায়ও মসজিদ কমিটি এড়াতে পারে না। মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়মিত দেখভাল করা দরকার ছিল। তাহলে হয়তো বিদ্যুতের স্পার্কের কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটত না। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে চার্জশিটে ২০ জনকে আসামি করার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষ হলে আসামির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

মসজিদে বিস্ফোরণের পর তিতাস, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত কমিটি করে। ইতোমধ্যেই ফায়ার সার্ভিস তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। পাশাপাশি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষও তদন্ত শেষ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দায়িত্বে অবহেলার মামলা দায়ের করে ফতুল্লা থানায়। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে ন্যস্ত করা হয়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৩৯ জন দগ্ধ হন। এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৩৪ জন।