বাফুফে নির্বাচনে অপ্রতিরোধ্য সালাউদ্দিনঃ প্যানেলেও জয়জয়কার

ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): বাফুফের প্রতিটি নির্বাচনেই কাজী মো. সালাউদ্দিনের ভোট বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে বিরোধীজোট যতোই নেতিবাচক সমালোচনা করুক না কেন, তিনি যে ভোটারদের কাছে অনেক জনপ্রিয় তা তার ভোটপ্রাপ্তিই বলে দিচ্ছে। বারবার বাফুফে সভাপতি পদে বিজয়ী এ কিংবদন্তি ফুটবলার তা প্রমাণও দিচ্ছেন।

কাজী মো. সালাউদ্দিন এ নিয়ে টানা চারবার সভাপতি নির্বাচিত হলেন। এর মধ্যে তিনবারই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছেন। একবার কেবল বিজয়ী হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

এবারের বাফুফে নির্বাচনে কাজী মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ ২১ সদস্যের নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে শীর্ষ পাঁচটিসহ ১৪ পদে জয়ী হয়েছেন।

অপরদিকে শেখ মোহাম্মদ আসলামের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদ কেবলমাত্র সদস্য পদে পেয়েছেন ৬টি পদ।

তবে সহসভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও সমন্বয় পরিষদের মহিউদ্দিন আহমেদ মহি সমান ৬৫টি করে ভোট পাওয়ায় তাদের মধ্যে আগামী ৩১ অক্টোবর পুনরায় ভোট হবে।

সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও তিনটি সহসভাপতির পর ৯টি সদস্য পদ পেয়ে কাজী মো. সালাউদ্দিনের সম্মিলিত পরিষদ ১৪টি পদে জিতেছেন। তারা হলেন সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, সহসভাপতি ইমরুল হাসান, কাজী নাবিল আহমেদ ও আতাউর রহমান মানিক। সদস্য- জাকির হোসেন চৌধুরী, বিজন বড়ুয়া, নুরুল ইসলাম নুরু, মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, সত্যজিৎ দাশ রুপু, ইলিয়াস হোসেন, ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ, মাহফুজা আক্তার কিরণ, হারুনুর রশিদ। তবে সম্মিলিত পরিষদ থেকে যে ৬ জন সদস্য পদে হেরেছেন তারা হলেন শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, অমিত খান শুভ্র, ইকবাল হোসেন, আসাদুজ্জামান মিঠু ও সৈয়দ রিয়াজুল করিম এবং সহসভাপতি পদে আমিরুল ইসলাম বাবু।

এদিকে শেখ মোহাম্মদ আসলামের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদ থেকে সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, আরিফ হোসেন মুন, টিপু সুলতান, আমের খান, সাইফুল ইসলাম ও মহিদুর রহমান মিরাজ।

বিপুল ভোটে জয়ী হবার পর কাজী মো. সালাউদ্দিন বিজয়ী সবাইকে পাশে দাঁড় করিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ের পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন ভোটারদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজয়টা ভোটারদের। ভোটের আগে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। সব কথার জবাব দেয়ার ছিল ভোটারদের। তারা সেটা দিয়েছেন। আমার প্যানেলের পক্ষ থেকে ভোটারদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

কাজী মো. সালাউদ্দিন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মিডিয়াতে অনেক কথা শুনেছি। অনেকে বলেছেন আমার ১০ ভোটও নেই। আমি প্রতি বছর বেশি ভোটেই পাস করছি। ২০০৮ সালের চেয়ে ২০১৬ সালে বেশি ভোট পেয়েছি। এবার পেয়েছি আরো বেশি ৯৪ ভোট। আমার ভোট বাড়ছে। ফুটবলের সাথে যারা জড়িত তাদের কাছে তো আমি জনপ্রিয়।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, আমার প্যানেলের বাইরে যারা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন তারা যে প্যানেল থেকেই আসুক না কেন আমি তাদের সাথে কাজ করবো। কারণ এটা রাজনীতি না যে এক দলের সাথে এক দলের মিলবে না।’ আমি তো ফুটবল পরিচালনা করতে এসেছি। কাজেই সবাই মিলেই ফুটবল উন্নয়নে কাজ করবো।

উল্লেখ্য রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৩ অক্টোবরে হওয়া এ বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৩৯ জন। কিন্ত ভোট পড়েছে ১৩৫টি। দুজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন না, ভোট দেননি আরো দুজন।