২৬ ব্যাক্তি,সরকারী সংস্থার অপর্যাপ্ত সহযোগিতা ডিএনডি প্রকল্পের সমস্যা !

সিদ্ধিরগঞ্জ(আজকের নারায়নগঞ্জ) : ডিএনডি প্রকল্পের বাস্তবায়নে এখন প্রধান সমস্যা ২৬ ব্যাক্তির আইনী ঝামেলা,সীমানা নির্ধারনে ধীরগতিসহ সরকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় উদাসীনতা।  ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে  রবিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরদের  মতবিনিময় সভায় এমনি তথ্য আলোচনায় আসে।

এসময় জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্ণেল মাশফিক আলম ভূইয়া বলেছেন, ‘২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তবে আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে ডিএনডিতে জলাবদ্ধতা থাকবে না বলা যায়। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ডিএনডিতে ২৪ দশমিক ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার্স মেজর কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফ্রেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী।

মাশফিক আলম ভূইয়া জানান, ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিএনডি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়। এর মেয়াদ শেষে হবে আগামী ২০২০ সালে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের বেসিক সমস্যা সমাধান করার পর আর পানি জমবে না। আমরা সেই ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও এ কাজের জন্য ৫৫৮ কোটি টাকার যে ব্যয় ধরা হয়েছে সেটাও বাড়বে। মোহাম্মদ মাসফিকুল আলম ভূঞা জানান, মূলত এখানে ড্যাম্পিং নেই, খালগুলোর নিচ দিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ওয়াসার সহ বিভিন্ন লাইন রয়েছে। যার জন্য পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

এ ছাড়াও উচ্চ আদালত থেকে ২৬জন অবৈধ স্থাপনার মালিক আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়ে এসেছে। এ ২৬ জনের জন্য ২২ লাখ লোকের সমস্যা হচ্ছে। আমরা এসব কিছুই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করছি।

তিনি আরো জানান, ডিএনডি প্রকল্পের অধীনে ৯৪ কিলোমিটার খালের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের ৫৪ কিলোমিটার বুঝিয়ে দিয়েছে। এখনও ৪০ কিলোমিটার বুঝিয়ে দেওয়ার বাকি। এর মধ্যে আমরা ৫০ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করে ফেলেছি।

সীমানা নির্ধারণে (ডিমারগেশন) প্রকল্পের কাজের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ্যকরে মোহাম্মদ মাসফিকুল আলম ভূঞা বলেন, ডিমারগেশনের জন্য কাজে দেরি হচ্ছে। ডিসি অফিস ও কানুনগো এসে জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু অনেক পুরানো কাগজ হওয়ায় অনেক সময় না পাওয়ার কারণে এতো বিলম্ব হয়। এছাড়াও সরকারী অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে ঠিক ভাবে সহযোগিতাও পাচ্ছি না।