ফেসবুকে কে কি ছড়াল তা যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না – প্রধানমন্ত্রী

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  গুঁজবে কান না দিতে দেশবাসীকে আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা বাঙালিরা হুজুগে মাতি। কেউ কিছু একটা বললেই ভালো-মন্দ বিচার না করে বিশ্বাস করি। তাই সবাইকে বলবো ফেসবুক-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে কি ছড়াল তা যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।

নিরাপদ সড়ক দাবিতে সহিংস আন্দোলন প্রসঙ্গে আজ রোববার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের সামনে আন্ডারপাস উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে প্রচার করা হলো, আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে কয়েকজনকে মেরে কার্যালয়ে লাশ রাখা হয়েছে। এটিকে অনেকে বিশ্বাসও করে বসলেন। আমাদের ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শিক্ষার্থীদের কাছে গেলেন। তাদেরকে আওয়ামী লীগ অফিসে নিয়ে যাওয়া হলো। শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে কিছুই পেল না। মাঝখান থেকে আমাদের দলের কয়েকজন কর্মীকে আহত করা হলো। তাদের কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন। তাই বলবো গুঁজবে কান দেবেন না। কেউ বললো চিলে কান নিয়ে গেছে, আপনি কানে হাত না দিয়ে চিলের পেছনে ছোটা শুরু করলেন, এটা কেমন কথা?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এদেশে প্রযুক্তির বিকাশ আমি করেছি। ফেসবুক যে আজ শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে সেটি আমি করে দিয়েছি। তাই এর ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালকদের ক্ষমা করা যায় না। আমরা তাদের কখনও ক্ষমা করব না। তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই ড্রাইভারদের ট্রেনিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু ট্রেনিং না দিয়ে ড্রাইভারদের গাড়িতে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। শেখ হাসিনা বলেন, যেভাবে শিক্ষার্থীরা নেমে এসেছিল তার প্রতিদান তারা পেয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।

‘কিন্তু আন্দোলনের তৃতীয় দিন দেখি ব্যাগের ভেতর থেকে ছাত্রদের পোশাক বের করে অনেকে ছাত্র হয়ে যাচ্ছে। তারা ব্যাগের ভেতর থেকে দা, রামদা এগুলো বের করছে। দর্জির দোকানে স্কুল ড্রেস বানানোর ভিড় বেড়ে গেছে। তখন আমি চিন্তিত হয়ে পড়ি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্ররা আন্দোলনের সময় যা বলেছে তাই করা হয়েছে। প্রত্যেকে তাদের কথা শুনেছে। ছাত্রদের আন্দোলনে যখন তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ে, তখন আমি অভিভাবক ও শিক্ষকদের আহ্বান করি তাদের সন্তানদের যেন তারা রাস্তা থেকে সরিয়ে নেন। তারা আমার কথা শুনেছে। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।

সড়কে যাতে কারো প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই দেখি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়িত্ব কে নেবে? রাস্তা পারাপারের সময় চারদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রাস্তা পারাপারের নির্ধারিত স্থান দিয়েই পারাপার হতে হবে। ড্রাইভারদের বলব, স্টপেজের বাইরে যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানো নামানো করা যাবে না। করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ।

গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন।

নিহত শিক্ষার্থীরা হল শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।

এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর পর তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এরই মধ্যে ওই কলেজশিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি বিশেষ বাস দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে নিহত দুজনের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। আর জাবালে নূর পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে।