মাদক ব্যবসায় অপারগতা : সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধুকে নির্যাতনের

সিদ্ধিরগঞ্জ(আজকের নারায়নগঞ্জ): মাদক ব্যবসায় করতে অপারগতা প্রকাশ করায সিদ্ধিরগঞ্জে  আকলিমা(২৮) নামে এক গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্যাতনের স্বীকার আকলিমা জানান, শাশুড়ী মাদক সম্রাজ্ঞী রোকসানা(৪৫) ও স্বামী মানিক(৩২) জেলে যাওয়ার পর থেকে তার ছেলে আকলিমার দেবর শান্ত ও আকলিমার ননদ আলেহা তাকে দিয়ে মাদক সরবরাহ করতো। বেশ কিছুদিন মাদক সরবরাহের পর হঠাত করেই সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। অভিযানে সারা দেশে বহু মাদক ব্যবসায়ী নিহত হলেও নারয়নগঞ্জে তেমন কোনো র‌্যাব ও পুলিশের ভুমিকা দেখা যায় নি।

পুলিশের এই অভিযান অব্যহত থাকলে ভয়ে সেই গৃহবধু আকলিমা মাদক সরবরাহ করতে রাজি না হওয়ায় তার দেবর শান্ত ও ননদ আলেহা তাকে মারধর ও শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে। মারধর এর এক পর্যায়ে তার চোখে আঘাত লাগলে সে মাটিতে পরে যায় এবং তার চিৎকারে এলাকার লোকজন এসে আকলিমাকে উদ্ধার করে।

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক সম্রাজ্ঞী রোকসানা পুলিশকে ম্যানেজ করে মাদক বিক্রি করে লাক্ষ লাক্ষ টাকার মালিক হয়েছে। মাদক সম্রাজ্ঞী রোকসানা ছেলে শান্ত র‌্যাব ও পুলিশের সোর্স। সে অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদেরকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তার মা রোকসানার মাদক ব্যবসার রাস্তা সহজ করে দিতেন।

মাদক সম্রাজ্ঞী রোকসানার মেয়ে আলেহা কখনো নিজের যৌবন দেখিয়ে বা কখনো ব্ল্যাকমেইল করে সাধারন মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আত্বসাত করেছে। যার এখনো কোনো হদিস নেই। রোকসানা জেলে যাওয়ার পর কিছুটা মাদক ব্যবসা কমলেও ৮/৮/২০১৮ইং বুধবার আবারও রোকসানা জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জেল থেকে বের হয়ে মাদক সম্রাজ্ঞী রোকসানা সে তার মেয়ে আলেহার বাড়িতে পুনরায় আশ্রয় নিয়েছে।

এ দিকে রোকসানা জেলের বাহিরে থাকায় এলাকায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। গৃহবধু আকলিমাকে নির্যাতনের দায়ে এলাকার গন্য মান্য লোকজন বিচার শালিসও করে। বিচারে নাসিক ৪/৫ ওয়ার্ড এর বহু লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক পৌর প্রশাসক আলহাজ্ব আব্দুল মতিন প্রধান। আব্দুল মতিন প্রধান বলেন, মাদকের সাথে আমাদের কোনো আপোষ নেই। মাদক বিক্রি করে সে যেই হোক তার কোনো ছাড় নেই। তিনি বলেন মাদক ব্যবসায়ী রোকসানাকে যদি কেউ আগামীতে মাদক বিক্রি করতে দেখেন তা হলে সাথে সাথে তাকে গাছের সাথে বেঁধে আমাকে খবর দেবেন আমি নিজে পুলিশ এনে ওকে ধরিয়ে দিবো। আর রোকসানাকে ৪/৫ নং ওয়ার্ডে যেনো আর না দেখা যায়।

গৃহবধু আকলিমার নির্যাতনের অভিযোগে রোকসানার ছেলে শান্ত ও মানিককে সকলের উপস্থিতিতে শ্বাসন করা হয় আর অভিযুক্ত আলেহাকে ও সাবধান করে দেওয়া হয়। পরবর্তিতে যেনো এ ধরনের অভিযোগ না আসে। যদি কখনো আসে তা হলে সামনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তার পর আকলিমার স্বামী মানিক, দেবর শান্ত ও ননদ আলেহার স্বাক্ষরে গৃহবধু আকলিমাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। আকলিমার স্বামী মনিক বলেছে আমি আমার বউকে আর কখনো মারবো না। এখন থেকে ভালো হয়ে চলবো।