ঈদুল আযহার শুভেচ্ছায় যে পরামর্শ দিলেন পলাশ

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রিয় নেতা এবং ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্সের কেন্দ্রিয় সভাপতি বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আলহাজ্ব কাউসার আহমেদ পলাশ করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরবানি করার বিষয়ে দেশবাসীকে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেন।

তিনি এক ভিডিও বার্তায় এলাকাবাসী ও দেশবাসীর প্রতি সুস্থ ও ভালো থাকার কামনা করে বলেন,

আসসালামু আলাইকুম রহমতুল্লাহ প্রিয় এলাকাবাসী,দেশবাসী,পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সামনে আমাদের কুরবানি।  আমরা গরু,খাসি জবাই করে থাকি। আসলে শুধু জবাই করার মাধ্যমেই আমাদের কুরবানি নয়, আল্লাহ সুবাহানাতায়ালা হযরত ইব্রাহিম আলাইসালামের সামনে যে পরীক্ষা রেখেছিলেন হযরত ইসমাইল আলাইসালামকে কুরবানি করার মধ্য দিয়ে, সে পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছিলেন ইব্রািহিম  আলাইসালাম। আর উত্তীর্ন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কোরান শরীফে আয়াত নাজিল করে আমাদের উপরে হুকুম জারী করেছেন আল্লাহ সুবাহানাতায়ালা। আর সেটার অনুযায়ী আমরা কুরবানি করে থাকি। আর সেই কুরবানি করার মধ্য দিয়ে আমাদের মনের ভেতরে যে পশুত্ব সে পশুত্বকে আমরা কুরবানি দিয়ে আমরা সুখ শান্তি কামিয়াবীর সফলতার জিন্দেগী আমরা বাড়াতে পারি।  সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত এবং লক্ষ্য রাখবো।

পাশাপাশি আমরা কুরবানি করবো এবং পশু জবাইয়ের মাধ্যমে কোরবানীর কারনে যে বর্জ্য এবং রক্ত-আবর্জনা সৃষ্টি হবে সেগুলো খোলা পরিস্কার করে নির্দিষ্টি জায়গায় ফেলে এলাকার পরিবেশকে আমরা সুন্দর রাখবো। সবাইকে শুভেচ্ছা,ঈদ মোবারক। সুস্থ থাকবেন,ভালো থাকবেন।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের তাণ্ডব চলাকালীন সময়ে আমাদের মাঝে সমবেত হয়েছে মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। প্যানডেমিক সিচুয়েশনে পশু কোরবানির ক্ষেত্রে আমাদেরকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং বর্জ্যব্যবস্থাপনার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রতিবছরই পশু কোরবানির পরপরই আমাদের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বর্জ্য অপসারণ। এ বিষয়ে আমাদের সামান্য অসাবধানতার কারণে দেখা দিতে পারে পরিবেশগত নানান সমস্যা।

তিনি আরো বলেন,মূলত কোরবানির পশুর বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলার কারণে তা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর মাধ্যমে চারপাশের পরিবেশ দূষিত করে তুলে। শুধু তাই নয়, নালা বা নর্দমায় ফেলা বর্জ্য থেকে ছড়ায় নানা ধরনের রোগের জীবাণু। অতিরিক্ত বর্জ্যের চাপে নর্দমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। অল্প বৃষ্টিতেই নর্দমার পানি আটকে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তখন এসব বর্জ্য অপসারণ করতেও হিমশিম খেতে হয় সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভাসহ স্থানীয় কতৃপক্ষকে।

বর্জ্য অপসারণ করার একটি অন্যতম উপায় হল কোরবানির আগেই বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায় একটা গর্ত খুঁড়ে রাখা। কোরবানির পর পশুর বর্জ্য সেখানে ফেলে মাটিচাপা দেয়া। তবে শহরাঞ্চলে গর্ত খোঁড়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পানি ও গ্যাসের পাইপ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের তার ইত্যাদি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কোরবানির সব কার্যক্রম শেষে রক্তমাখা রাস্তাঘাট ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। জীবাণু যেন ছড়াতে না পারে সেজন্য নোংরা জায়গা পরিষ্কারের সময় ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের একটু সচেতনতা আর সঠিক পরিকল্পনাই এ সমস্যার সমাধান দিতে পারে।