লবনের ভেতরে ইয়াবাঃ ২ লাখ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ    ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে লবন পরিবহনের আড়ালে টেকনাফ ও উখিয়া থেকে ইয়াবা পরিবহনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর পূর্বাচল এলাকার তিনশ’ ফিট সড়কে এ ধরনের একটি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি করে ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১। এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যান চালক মানিক মিয়া (২৭), হেলপার আরিফ (২২) এবং ট্রাকের চালক মাসুম মিয়া (৪০) ও হেলপার আব্দুল খালেককে (২৮) গ্রেফতার করেছে।

বুধবার সকালে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‍্যাবের র্মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে লবণবোঝাই দুটি গাড়িতে ইয়াবার বড় চালান ঢাকায় এসেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গোপনে ওই গাড়ি দুটি শনাক্ত করেন। গাড়ি দুটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকেন তারা।

গত মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল এলাকার তিনশ’ ফিট রোড দিয়ে গাড়ি দুইটি প্রবেশের সময় র‌্যাব আটক করে তল্লাশি করে। কাভার্ড ভ্যানের সামনের অংশে গোপন প্রকোষ্ঠে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১ লাখ ৯৬ হাজার ইয়াবা এবং ট্রাকের অতিরিক্ত চাকার ভিতর হতে ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বিশেষ কৌশলে ইয়াবার চালানটি ঢাকায় এনেছিলেন মাদক ব্যবসায়ীরা। একসঙ্গে দুটি গাড়িতে ইয়াবার চালান আনা হয়। প্রথম গাড়িতে ১০ হাজার পিস ও পরের গাড়িতে প্রায় দুই লাখ পিস ইয়াবা আনা হয়। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথম গাড়ি ধরা পড়লে সেটি নিয়ে ব্যস্ত থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরেরটি  চলে যেতে পারে। এই বুদ্ধি কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন তারা।

গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে,  কাভার্ড ভ্যানে লবন লোড করে ৩ আগস্ট টেকনাফ হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। টেকনাফস্থ রফিক নামক এক মাদক দালালের পরিকল্পনা অনুযায়ি চকরিয়াতে গাড়ি মেরামতের অজুহাতে পূর্বনির্ধারিত একটি ওয়ার্কশপে যাত্রা বিরতি করে। যাত্রা বিরতির সময় ওয়ার্কশপে মাসুমের তত্ত্ববধানে কাভার্ড ভ্যানে গোপন প্রকোষ্ঠটি তৈরী করা হয় এবং উক্ত গোপন প্রকোষ্ঠের ভিতর ১ লাখ ৯৬ হাজার টি ইয়াবা রাখা হয়।

মাসুম চালিত ট্রাকের অতিরিক্ত চাকার ভিতরে ১০ হাজার টি ইয়াবা লুকানো হয়। গ্রেফতারকৃত দুই চালকের গাড়ি চালনার লাইসেন্স নেই।

গ্রেপ্তার হওয়া চারজন বলেন, এই চক্রের সদস্য ১৫-২০ জন, যারা সবাই পরিবহন-সংশ্লিষ্ট খাতে কমর্রত। নিজেদের পেশার আড়ালে গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারা। গত এক বছরে আটটি চালান পাচার করেছে এই দল। এই চক্রের নিয়ন্ত্রণকারী টেকনাফের রফিক দালাল এবং ব্যবস্থাপনার সাবির্ক দায়িত্বে রয়েছে চালক মাসুম।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা পরিবহন চালনার ছদ্মবেশে মাদক ব্যবসা করতেন।পরিবহন খাতে এ ধরনের আরও বেশ কয়েকটি চক্র রয়েছে। কক্সবাজারের স্থানীয় কিছু দালাল মাদক ডিলারদের যোগসাজশে পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও সহকারীকে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের গাড়িতে ইয়াবা পরিবহনের জন্য প্রলুব্ধ করে থাকেন। এ জন্য ওই দালালরা একটি লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। মাদক লেনদেনের অথর্ সাধারণ ব্যাংক, ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার বা হুন্ডির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে বলে জানান গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে রাজেসপুরের নুর ইসলামের ছেলে মনির মিয়া, দক্ষিণ কুমিল্লার ধর্মপুর এলাকার শরাফত আলীর ছেলে মাসুম মিয়া, কুমিল্লার বসন্তপুর এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন ও কক্সবাজারের রামু থানার নন্দখালী এলাকার আব্দুল মতলব মিয়ার ছেলে আব্দুল খালেক।

এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।