আমার আরো একটি দল আছে, আনারস – সেলিম ওসমান

বন্দর(আজকের নারাযনগঞ্জ): নারায়নগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি একেএম   সেলিম ওসমান বলেছেন, আমি আওয়ামীলীগের, আমি জাতীয় পার্টির, আমি বিএনপির। আমার আরো একটি দল আছে, আনারস। 

তবে জনপ্রতিনিধিদের কোন দল নাই। জনপ্রতিনিধিদের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনারা সবাই আমাকে সহযোগীতা করেছেন বলেই আজকে আমরা বন্দরে এতো উন্নয়ন করতে পেরেছি। আমি কখনো আপনাদের সামনে সংসদ সদস্য হিসেবে উপস্থিত হই নাই। আমি আপনাদের সেবা করতে এসেছি।

মঙ্গলবার ৭ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় বন্দরের সোনাকান্দা এলাকায় অবস্থিত হেভেন কমিউনিটি সেন্টারে সোনাকান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।

সেলিম ওসমানের এমন বক্তব্য শুনে সভাস্থলে উপস্থিত সকলেই দুই হাত তুলে সমস্বরে বলেন আপনি কোন দলের না আপনি আমাদের সবার। আগামীতে এমপি হিসেবে আপনাকেই আমরা চাই। আমরা নিজেরাই আপনার জন্য জানপ্রান দিয়ে কাজ করবো।

এমপি সেলিম ওসমান আরো বলেন, আমি আপনাদের প্রিয় নেতা প্রয়াত নাসিম ওসমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও দেখা যাওয়া অসম্পন্ন স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে কাজ করে গেছি। আপনারা ইউটিউবে খুঁজলে দেখতে পাবেন নাসিম ওসমান সংসদ অধিবেশনের বক্তব্যে কি কি উন্নয়নের কথা বলে গেছেন। আমি তাঁর প্রায় সব গুলো কাজই বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছি।

মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর দিয়ে নাসিম ওসমান সেতু হচ্ছে, নবীগঞ্জ দিয়ে ফেরী চালু হয়েছে। অচিরেই সেখানে একটি ব্রিজের ঘোষণা আমরা পেতে যাচ্ছি। ৫নংঘাট-ময়মনসিংহ পট্টি দিয়ে আরো একটি ফেরী সার্ভিস চালু হবে। কদমরসুল কলেজকে সরকারী করা হয়েছে। বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও বন্দর গালর্স স্কুল এন্ড কলেজকে সরকারীকরনের প্রক্রিয়া চলছে। বন্দর খেয়াঘাট সাধারণ মানুষের জন্য টোল ফ্রি করে দিয়ে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও টিআর কাবিখা ও সরকারী অন্যান্য বরাদ্দের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। যে গুলো বাকি রয়েছে সেগুলোও যাতে দ্রুত শেষ করতে পারি এ ব্যাপারে সবার সহযোগীতা চাই।

সবশেষ এলাকার উন্নয়নে তিনি সবাইকে একত্রিত থাকার আহবান রেখে বলেন, কেন জানি না আমরা নারায়ণগঞ্জের মানুষের ভাগ্য খারাপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের জন্য বিশেষ দৃষ্টি দিলেও আমরা যথাযথ উন্নয়ন করতে পারছি না। তাই আমাদের সকলকে একত্রিত থাকতে হবে। সবাই একত্রিত থাকলে কিভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবী আদায় ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব তা আমার সামনে বসা স্কুলের শিক্ষার্থীরা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। সারা বাংলাদেশে তারা একত্রিত হতে পেরেছিল বলেই প্রধানমন্ত্রী তাদের ৯ দফা মেনে নিয়েছেন। বাংলাদেশে কখনো কোন আইন এতো দ্রুত পাস হয়নি যতদ্রুত শিক্ষার্থীদের ৯দফা দাবীর কারনে সড়ক আইন করা হয়েছে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মন্ডল, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ১৮,১৯,২০নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর শিউলী নওশেদ সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।