কুকুরের খাঁচায় ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্টা,বখাটে রূপুসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): কুকুরের খাচাঁয় ঢুকিয়ে রিকশা চালককে নির্মম কায়দায় হত্যার চেষ্টার অভিযোগে অবশেষে মামলা নিয়েছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। মামলায় জামতলার বখাটে রুপুসহ ৩জনকে আসামী করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।     সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় ফতুল্লা মডেল থানায় নির্যাতনের শিকার আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আব্দুর রাজ্জাক নগরীর জামতলা এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকার আব্দুর রহিমের বাড়ির প্রহরী মহিউদ্দিন দুই মাস আগে তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ধার নেয়। ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুর রাজ্জাককে মহিউদ্দিন ডেকে নিয়ে জানায় সে তার কাছে কোনো টাকা পাবে না। আব্দুর রাজ্জাক এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি মেরে জখম করে।

পরে মহিউদ্দিন এবং আবদুর রহিমের ছেলে মাহমুদুর রহমান রূপুসহ কয়েকজন আব্দুর রাজ্জাককে বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুটি পালিত কুকুরের খাঁচার ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। এসময় কুকুর দুটি তার শরীরের বিভিন্ন স্থান কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে প্রভাবশালী মহল তাকে চোর উল্লেখ করে হত্যার চেষ্টাকারী মাহবুবুর রহমান রূপুকে দিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে চুরির অভিযোগ দেয়।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, মাহমুদুর রহমান রুপু ও প্রহরী মহিউদ্দিনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, মাহমুদুর রহমান রুপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আব্দুর রাজ্জাককে চোর বানানোর চেষ্টায় জমা দেয়া অভিযোগ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।

তারা জানান, ইতোপূর্বে রুপু জঙ্গি লিপলেট ও অস্ত্রসহ মাসদাইর আদর্শ স্কুলের সামনে থেকে গ্রেফতার হয়। পরে রুপুর পিতা আব্দুর রহিম একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় রুপুকে ১৪দিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত করে আনে।

এলাকাবাসী জানায় কানাডায় সে একজন বিদেশী মহিলাকে বিয়ে করে। কয়েক বছর সেখানে অবস্থানের পর রুপু পালিয়ে দেশে ফিরে আসে। এখানে এসে রুপু নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করে। রূপুর বাবাও জামতলা এলাকার আইসক্রীম বিক্রেতার বিবাহিত মেয়ের সঙ্গে এলাকাবাসীর কাছে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পরে। পরে এলাকাবাসীর চাপে সে তাকে বিয়ে করে। জন্ম নেয় একটি ছেলে সন্তান।

দ্বিতীয় স্ত্রী তার ছেলের নামে একটি বাড়ি লিখে দিতে বললে আব্দুর রহিম তাকে তালাক দেয়। তবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সন্তান নিয়ে জামতলায় রহিমের দ্বিতীয় তলা বাড়িয় দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছে। তাকেও উচ্ছেদ করতে একটি প্রভাবশালী মহলের কাছে ধর্না দিচ্ছে রহিম।