বাংলা মায়ের রূপ

— শরীফ শেখ

ভাষা নেই বর্ণি আমি বাংলা মায়ের রূপ
অবাক বিস্ময়ে তাই চেয়ে থাকি নিশ্চুপ।
পথের ধারে অজস্র আকন্দ ফুল ঝোপ
দেয় সুরভি সুষমা ভালবাসার টোপ।
কচি ধানক্ষেতে ওড়ায় বকেরা পাখনা
সবুজে শাদার খেলা মন ভরে দ্যাখ না।
ঘাটে নাও বেধে ধিয়াল পাতে কে রে ভাই
দেবে মাছের মুড়ো এসেছে যে জামাই।
দীঘিতে গাছের বিম্ব শান্ত করে মন
ঐ জলেতে সাতার কাটে আছে কোন জন?
পাটকাঠির ঝূটির ভেতর লুকোচুরি খেলা
মন আমার খুজে পায় সুখের বালকবেলা।
লগি ধরে নায়ে বসে কে তুমি ভাই
আমারো ইচ্ছে করে ওই নায়েতে যাই।
তোমার সাথে ধরবো আমি টেংরা শিং কই
তুমি একা মাছ ধরবে তা হবে না সই।
কাঠাল পাতার ঝিলিমিলি দেখতে কী সুন্দর
বাতাস দোলায় তনু তোমার আমি লখিন্দর।
বেল গাছে বেল ধরেছে তাল গাছ তা দ্যাখে
শিশুরা সব খেলা করে ধুলোমাটি মেখে।
বগীর পিছে বগা ওড়ে প্রেমে উন্মাতাল
ভালবাসা হয়না ভেবে আকাশ পাতাল।
সাপটি আছে ঘাপটি মেরে ব্যাঙ ধরবে সে
মুরগীছানা ধরে চিল ঘাই মেরে এসে।
জাংলা ছাওয়া কুমড়ো ফুলে কী যে সুন্দর
ধানক্ষেতের ঢেউ দোলায় এ হৃদয়ের বন্দর।
কলাগাছে কলার কাদি দেখতে মজার
দুধ কলা ফলার না হলে জামাই বেজার।
আখ ক্ষেতে ঢুকে গেল মস্ত এক শেয়াল
গৃহস্থের তাড়া খেয়ে হয়েছে নাকাল।
খড়ের গাদার পিছে বেজি অপেক্ষমাণ
মুরগীছানা ধরবেই সে হাতে নিয়ে প্রাণ।
জলার মধ্যে পানকৌড়ি খেলছে ডুবসাতার
ফিঙেটা লেজ ঝুলিয়ে করছে ইন্তেজার।
চাষী ভাই কাটে পাট হাটু জলের ভেতর
মালকাছা গামছা মাথায় উদাম তার গতর।
কৃষকেরা ধান লাগায় আধহাটু কাদায়
খালি গা বৃষ্টিতে ভেজে রোদে শুকায়।
সবুজ বাংলায় আছে কৃষকের অবদান
কৃষকই বন্ধুরে ভাই কৃষি আমার প্রাণ।