আমেরিকার মাটিতে টাইগারদের ইতিহাস সিরিজে সমতা

ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): ব্যাটসম্যানরা এনে দিয়েছিলেন ১৭১ রানের লড়াকু পুঁজি। বোলাররা তাদের কাজটা করলেন ঠিকঠাক। ক্ষণে ক্ষনে রং বদলানো ম্যাচে এলো ১২ রানের জয়। ফ্লোরিডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ সমতায় (১-১) আনলো বাংলাদেশ।

ফোর্ট লডারডেল মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ১৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবীয়রা করতে পারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান। একই মাঠে সোমবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান দেন আবু হায়দার রনি। অপর প্রান্তে মোস্তাফিজুর রহমান টানা তিন ওয়াইড দিয়ে শুরু করলেও উইকেট তুলে নেন দ্বিতীয় বলেই। এভিন লুইসকে (১) এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফেরান এ বাঁহাতি পেসার।

তৃতীয় ওভারে খরুচে থাকেন রুবেল হোসেন। এসেই দেন ১৬ রান। দুই চার এক ছয়ে হজম করেন শুরুতেই। মোস্তাফিজ নিজের দ্বিতীয় ওভারে দেন ২১ রান। ওই ওভারেই অবশ্য ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা আন্দ্রে রাসেলকে ফেরান। ১০ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ১৭ রান করে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

রাসেল সাজঘরে ফেরার পরই মারলন স্যামুয়েলস উইকেটে এসেই ঝড় তোলার চেষ্টা করেন। মোস্তাফিজের শেষ বলে মারেন একটি চার ও ছক্কা। ঝড় দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আগেই স্যামুয়েলসের লাগাম টেনে ধরেন সাকিব। জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন। ৩ বলে ১০ রান করে ফেরেন এ ডানহাতি।

প্রথম ওভারে খরুচে থাকা রুবেল নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই তুলে নেন দিনেশ রামদিনের উইকেট। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে করেন ১১ বলে ৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর হয়ে যায় ৫৮/৪। সেখান থেকে জুটি গড়েন পাওয়েল ও ফ্লেচার।

পঞ্চম উইকেটে আন্দ্রে ফ্লেচার ও রোভম্যান পাওয়েল ৫৮ রানের জুটি গড়ে এগিয়ে নেন দলকে। ৪৩ রান করে ফ্লেচার সাজঘরে ফিরলে ভাঙে জুটি। নাজমুল ইসলাম অপুর বলে সাকিবের হাতে ক্যাচ দেন এ ডানহাতি। ৭ বলে ১১ রান করে সাকিবের দ্বিতীয় শিকার হন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তখন দরকার ২২ বলে ৪১।

শেষ ওভারে তাদের দরকার ছিল ১৫ রান। সাকিব নাজমুল ইসলাম অপুর ওপর ভরসা রাখেন। অপু হতাশ করেননি। মাত্র ২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে দলকে ১২ রানের জয় এনে দেন।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের অর্ধশতকে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান তোলে বাংলাদেশ।

৪৪ বলে ৭৪ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন তামিম। ফোর্ট লডারডেল মাঠে শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক মেজাজ দেখানো সাকিব ৩৮ বল খেলে করেন ৬০ রান। দুই তারকা ক্রিকেটার চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫০ বলে গড়ে তোলেন ৯০ রানের দারুণ এক জুটি। আর তাতেই শুরুর হোঁচটের পরও বড় সংগ্রহ পেয়েছে টিম টাইগার্স।

তামিম টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন ৩৫ বলে। পরের ৯ বলে যোগ করেন ২৪ রান। আন্দ্রে রাসেলকে তিন ছক্কা মেরে ওই ওভারেই বাউন্ডারি সীমানায় কিমো পলের হাতে ক্যাচ দেন এ ড্যাশিং ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৪টি ছয় ও ৬টি চারের মার।

সাকিব ফিফটি পূর্ণ করেন ৩০ বলে। অধিনায়ক হিসেবে টি-টুয়েন্টিতে এই অলরাউন্ডারের প্রথম ফিফটি। পরের ৮ বলে ১০ রান যোগ করে কিমো পলের দ্বিতীয় শিকারে পরিনত হন।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১০ বলে ১৩ ও আরিফুল হক ১ বলে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হন লিটন দাস। তিনে মুশফিকুর রহিম। আর চারে সৌম্য সরকার। ব্যাটিং পজিশন অদলবদল করলেও শুরুতে হতাশাই উপহার দেন ব্যাটসম্যানরা। ৭.৪ ওভারে ৪৮ রান তুলতেই তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তামিম টিকে থাকায় তখনও আশা থাকে ভালো কিছুর। পাঁচে নামা সাকিবের সঙ্গেই গড়ে ওঠে ওপেনার তামিমের জুটি।

আগের ম্যাচের মতোই নিজের প্রথম ওভারে উইকেট নেন অফস্পিনার অ্যাসলে নার্স। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে কাভারে ব্র্যাথওয়েটের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। ৫ বল খেলে ১ রান করেন এ ডানহাতি। দলীয় রান তখন ৭।

বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারেননি মুশফিকও। ৪ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। নার্সের দ্বিতীয় ওভারে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আন্দ্রে রাসেলের হাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটিং ভরসা।

১৪ রান করে কিমো পলের স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে বাউন্ডারি সীমানায় পাওয়েলের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য। দলীয় অর্ধশতকের আগে তিন উইকেট হারালে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। চাপ সামলে নেন সাকিব-তামিম মিলে। অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে গড়ে ওঠে জয়ের ভিত।