ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের গিনিপিক হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা শামীম ওসমানের

সিদ্ধিরগঞ্জ(আজকের নারায়নগঞ্জ):  নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন,ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের গিনিপিক হিসেবে ব্যবহার কিনা সে ব্যাপারে আমার সন্দিহান লাগছে। এই ইউনিফর্ম বানানোর পেছনে নির্দিষ্ট কোন কারণ আছে। ছাত্রদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়া তাদের উদ্দেশ্য হতে পারে। ট্রাকে করে বিভিন্ন পয়েন্টে অপরিচিত চেহারার বহিরাগতদের মাঠে নামানো হচ্ছে। আমি নিজেও তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি। আমার কাছে মনে হয়নি তারা ছাত্র।

৪ আগস্ট তিনি শনিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ১নং ওয়াডের্র মিজমিজি এলাকায় নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

শামীম ওসমান শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের সন্তানদের খবর নেন। তারা আন্দোলন যা করার করেছে। আমি গর্বিত তাদের এই আন্দোলনের জন্য। কিন্তু এখন এই আন্দোলনকে অন্য দিকে প্রভাবিত করতে চাইছে। আপনাদের সন্তানদের কাধে ভর করে শকুনের দল দেশ ধ্বংসের পায়তারা করছে।
নাসিক ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হাকিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারন সম্পাদক আমিনুল হক ভুইয়া রাজু, ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির ও যুবলীগ নেতা মোঃ ফারুকসহ অনেকে।

শামীম ওসমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গতকাল মোহাম্মদপুরে শুধু একটি টেইলার্স থেকেই আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর ইউনিফর্ম ডেলিভারী নেয়া হয়েছে। এরা কারা করছে? নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি টেইলার্স থেকে আড়াইশ নতুন ইউনিফর্ম বানিয়ে রাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এদেরকে মাঠে নামানো হচ্ছে। এদের সাথে জামায়াত শিবির, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এবং কিছু বামপন্থি দলও যুক্ত হয়েছে। এদের স্বার্থ কি?
শামীম ওসমান বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবী মেনে নেয়ার পরও একটি বিশেষ শক্তি তাদের বুকের উপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরী করতে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শামীম ওসমান এই পরিস্থিতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে অভিভাবকদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক থাকার আহবান জানান। পাশাপাশি রাস্তায় গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষার সময় সেই ছাত্রটির পরিচয়পত্র দেখে আসেলই সে ছাত্র কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন।
শামীম ওসমান সংশয় প্রকাশ করে বলেন, মনে হচ্ছে আমাদের এই উন্নয়নশীল দেশকে পিছনে দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি শক্তি কাজ করছে। আমি আশা করি তারা সফল হবে না। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, দেশটাকে শেষ করা হবে।
তিনি এই অপরাজনীতিকে নোংরা রাজনীতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, আমি এটাকে বলব দিস ইজ পার্ট অব দ্য ডার্টি পলিটিক্স।
প্রসঙ্গত দুইজন শিক্ষার্থী বাসের চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে দুইদিন যে ছাত্র আন্দোলন হয়েছে তাতে অভিভূত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান যিনি ছাত্র রাজনীতি করেই বেড়ে উঠেছেন।
৩ আগস্ট শুক্রবার দুপুর থেকে চাষাঢ়াতে অবস্থান নেয় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা আটক করে বেশ কয়েকটি গাড়ির চাবি যাদের লাইসেন্স ছিল না। তবে দুপুর ২টায় শামীম ওসমান আসেন চাষাঢ়াতে।
তিনি তাদের মাঝে হাজির হয়ে নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনকারীদের স্যালুট দিয়ে বলেন আমি সত্যি অভিভূত। আমি মনে করেছিলাম দেশের ছাত্র রাজনীতি বোধহয় নির্জীব হয়ে গেছে। এ নারায়ণগঞ্জ অনেক আন্দোলনের সূতিকাগার। সেই নারায়ণগঞ্জে যেভাবে ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে তাতে আমার মনটা ভরে গেছে।
তিনি বলেন, আমি এজন্য তোমাদের অভিনন্দন জানাই যে তোমরা সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তায় নেমে গাড়ি চালকদের লাইসেন্স চেক করেছ। অথচ এটা করার দায়িত্ব ছিল পুলিশের। আমাদের প্রশাসন হয়তো ঠিকমত দায়িত্ব পালন করে না। কিন্তু ভবিষ্যতে করতে হবে। নতুবা এসব বাচ্চা বাচ্চা ছাত্র ছাত্রীরা যেভাবে আন্দোলন করেছে সেটাকে আমি মনে আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমিও তোমাদের দাবীর সঙ্গে একমত। আমার কাছে খবর আছে ও ভিডিও আছে যেখানে দেখা গেছে তোমাদের ভীড়ে অনেক জামায়াত ও শিবিরের লোকজন সহ বাম ঘরনার অনেকে আছে। আসলে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। তোমরা যেমন রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছ অধিকার আদায় করতে। ঠিক তারা এসব জমায়েতকে ভিন্ন দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করে। উস্কানি দিয়ে তারা পিছু হটে যাতে তোমরা বিপদে পড়ো।