ছাত্র আন্দোলনে বাঙ্গালী জাতির আশা-আকাঙ্খা জেগে উঠছে’

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ  বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি-জননেতা কমরেড মাহমুদ হোসেন দেশের সম-সাময়িক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, নিরাপদ সড়ক চাই শিরোনামের ৯-দফা দাবী নিয়ে দেশের ছাত্ররা যেভাবে সংগ্রাম করছে, ছাত্র আন্দোলনে বাঙ্গালী জাতির আশা-আকাঙ্খা জেগে উঠছে।

মনে হচ্ছে আমাদের সন্তানেরা ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতার স্বাধীকার আন্দোলন করছে। এক সময় ছাত্র আন্দোলনের প্রতি বাংলার মানুষের শ্রদ্ধা ছিল, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ছিল, কৃষকরা বলেছিল, এবার ছাত্র আন্দোলন জেগে উঠেছে, সার-জীব ও কীটনাশকের দাম কমবে কৃষক তার অধিকার পাবে। শ্রমিকরা ভেবেছে কল-কারখানায় অধিকার ফিরে আসবে। শিক্ষা উপকরণের মূল্য কমবে। চাকুরীর নিশ্চয়তা হবে। এ আত্মবিশ্বাস বাঙ্গালী জাতির ছিল। দেশ স্বাধীনতার পর আমাদের দেশের শাসক শ্রেণীর পোশাক পরিবর্তন হয়েছে রাষ্ট্রের পরিবর্তন হয়নি। যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা ছিল টাকার এপিঠ -ওপিঠ। তারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য ছাত্র সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।

ছাত্রদের কে দিয়ে টেন্ডার বাজি তুলা বাজি, শিক্ষাঙ্গণে ভর্তি বাণিজ্য, মাদকসহ নানাবিদ অসৎ কর্মে ব্যস্ত রেখে ছাত্র আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যে কারণে যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে তাদের দলীয় সমর্থক ছাত্ররা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার গদি দখলের সংগ্রাম করেছেন জাতীয় সমস্যা নিয়ে সংগ্রাম করেনি। ছাত্র অধিকার নিয়ে যখন প্রগতিশীল ছাত্ররা জোট করে আন্দোলন করে। কোটা সংসকার করার কথা বলে তখন ক্ষমতাসীনদের ছাত্রনেতা অ-ছাত্র দলীয় সন্ত্রাস রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসদের পাহারায় প্রগতিশীল সাধারণ ছাত্রদের উপর অমানসিক নির্যাতন-নিপীড়ন চালায়। তারা একবারও ভেবে দেখেনা এ আন্দোলন সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য।

মাহমুদ হোসেন কলেন, ক্ষমতাসীনদের ছাত্ররা সবাই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয়। আবার সবাই বড় বড় ব্যবসায়ী বা এমপি মন্ত্রীর সন্তানও নয়। যদি হত তাহলে লন্ডন, ্আমেরিকা, জার্মান সহ বিভিন্ন দেশে লেখাপড়া করত, কিন্তু তারাতো মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত বা সাধারণ কৃষক শ্রমিক বা চাকুরীজীবি বিভিন্ন পেশাজীবির সন্তান এ চিন্তা যদি থাকতো, তাহলে সাধারণ ছাত্র আন্দোলনে তারা ভাবতো, এ সংগ্রাম আমাদের মৌলিক অধিকার, অবশ্যই সমর্থন করা উচিৎ। এ সংগ্রামে দলের প্রভাবে পোশাকধারী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের পাহারায় সাধারণ ছাত্রদের উপর নির্যাতন করত না, হামলা, গুম, খুন করতো না। সাধারণ ছাত্রদের উপর হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ করতো। যার ফলে বিভিন্ন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্ররা যখন আন্দোলন করে সাধারণ মানুষ তা শ্রদ্ধার চোখে দেখে না। জনগণ মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর সমালোচনা করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার সংগ্রাম, সাধারণ মানুষ তার দিকে ফিরেও তাকায় না। এয়ারপোর্ট রোডে বাস চালক দ্বারা খুন হওয়া দুটি তাজা প্রাণ কেরে নিল। ছাত্র-ছাত্রীরা নিরাপদ সড়ক চেয়েছে। তারা কোন সরকারকে নামানো বা বসানোর জন্য আন্দোলন করে নাই। তাহলে কেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হলো। তারা কি অপরাধ করেছে? এ বর্বরতা আর কত দিন? আজ আইনের শাসন জাতীর কাছে প্রশ্নের মুখোমুখি। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

মাহমুদ হোসেন বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ছবি তুলে এক শ্রেণীর ব্যক্তিরা অভিভাবকদের ফোন করে জানায় আপনার ছেলেকে স্কুল-কলেজ থেকে টিসি দেয়া হবে। এ আন্দোলন বন্ধ করতে বলুন। তারা কারা? খুঁজে বের করে তাদের বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন সড়ক দূর্ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের দেশের মন্ত্রীরা দু:খ প্রকাশ না করে হেসে হেসে কথা বলে। এর কারণ কি? আমাদের দেশের সড়ক পরিবহন সহ বিভিন্ন যাত্রী পরিবহন, নৌ-পরিবহন, মাল পরিবহন এর মালিক হচ্ছে মন্ত্রি-এমপি, ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা সড়ক পরিবহনের মালিক হয়েও শ্রমিক নেতা। কিভাবে আসবে শ্রমিক অধিকার?

মাহমুদ হোসেন আরও বলেন, আজকে সাধারণ ছাত্ররা নিরাপদ সড়ক চাই ৯-দফা দাবী নিয়ে যে সংগ্রাম করছে সাধারণ মানুষের ছাত্র- আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা, অঘাত বিশ্বাস জেগে উঠেছে। সারা বাংলার মানুষ তার সমর্থন করছেন, আমিও তার সমর্থন করছি। ছাত্ররা রাষ্ট্রযন্ত্রকে চোঁখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নিরাপদ সড়ক করা কি ভাবে সম্ভব। অনেক ধরণের ট্রেনিং নিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে পুলিশ যা পারেনি, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কোন প্রশিক্ষণ নেই, অল্প সময়ের জন্য হলেও তারা পেরেছে সড়ক নিরাপদ করতে। তারা যখন গাড়ী চালকদের প্রশিক্ষণ সনদ আছে কিনা, গাড়ি থামিয়ে দেখেছিল তখন শতকরা ৭০টি গাড়ির ফিটনেস ও চালকের প্রশিক্ষণ সনদ পাওয়া যায় নাই। কিন্তু তারা আপত্তিকর কিছু না করে গাড়ি সাইড করে পুলিশকে হাওলা করেছে। আর রাস্তায়ও কোন যানজট ছিল না। দক্ষতার সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা জন ভোগান্তি হতে দেয়নি। যতটুকু ভোগান্তি ছিল তা ছিল অতি আনন্দের, কেউ তা অসমর্থণ করেনি বা বিরক্তিও হয়নি বরং খুশি হয়েছে। এমনকি পুলিশের গাড়ি চালকের সনদও পাওয়া যায়নি। যে পুলিশ জনগণের আয় করের টাকায় রেশনের মাধ্যমে মাত্র ১৫০/- টাকায় প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, ৮ কেজি তেল, ৫ কেজি চিনিসহ বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য পায়, আবার সম্মানজনক বেতনও পায়, তবে তারা অনুপার্জিত টাকার জন্য ব্যস্ত, এখানে জনগণের জীবন এল কি গেল তাদের কিছু আসে যায় না। অনুপার্জিত টাকাই মুখ্য বিষয় হয়ে দাড়ায়।

অথচ উল্লেখিত সুবিধাগুলি পায় জনগণের আয় করের টাকায়। তাহলে রাষ্ট্র ক্ষমতাসীনরা তার কি ব্যবস্থা নিবে। এর কোন ব্যবস্থা নিতে গেলে তো আর ক্ষমতায় থাকবে না। যখন বাম পন্থিরা বিরোধীরা সংগ্রাম করে, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এর দাম কমাও, যখন বলে রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সুন্দরবন বাঁচাও! চাল, ডল, তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমাও। সার জীব, কীটনাশকের দাম কমাও, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ কর। শিক্ষা উপকরণের মূল্য কমাও। দেশের কালো টাকা সাদা করা যাবে না। অনুপার্জিত আয় রাষ্ট্রের তাদের সম্পদ রাষ্টায়াত্ব কর। শ্রমিকের মজুরী বাড়াও। প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলির জাতীয় স্বার্থ নিয়ে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যখন আন্দোলন করে বা হরতাল করে তখন ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়াল দলীয় সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীরা লাঠি, গুলি, জল কামাল, টিয়ারসেল, কাদুনি গ্যাস মেরে গণগ্রেফতার, হামলা-মামলা করিতে এতটুকু কৃপনতা করে না। ক্ষমতাসীনদের বাহাবা পেয়ে কেউ আবার বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়। এই ঘুনেধরা রাষ্ট্রযন্ত্র বিনা নির্বাচনের সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। অনতি বিলম্বে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।

আজ শুক্রবার বিকালে পার্টির ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি মো: আল-আমিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মি সভাতে মাহমুদ হেসেন এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ফতুল্লা থানা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মী সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা সাাইফুল ইসলাস, হেলিম সরদার, সুমন হাওলাদার, মোহাম্মাদ আলী, মো: বাবুল মিয়া, সাবিনা ইয়াসমিন, নূরুন্নবী, মো: বিপ্লব, মো: জুয়েল রানা, মো: রানা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।