নাসিকের সুবিধা বঞ্চিত ৭শ’র অধিক পরিবার

বন্দর(আজকের নারায়নগঞ্জ):  বন্দর রাজবাড়ী এলাকার ৭শ’র অধিক পরিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২নং ওয়ার্ড’স্থ রাজবাড়ী এইচএম সেন রোডটি রাত হলেই ভুতুরে নগরীতে পরিনত হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার ফলে নামকা ওয়াস্তে ড্রেনের কাজ সমাপ্ত করার পর আর ওই রোডটিতে রাস্তার সংস্করণ সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকার রাস্তাটি খানা-খন্দকে পরিনত হলেও পরবর্তী সময়ে আর তেমন কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। দিনের আলো শেষ হতে না হতেই অন্ধকারে ঢেকে ভুতুরে নগরীতে পরিনত হয়।

এই এলাকা সিটি অন্তভূক্ত হলেও ৭শ’র অধিক পরিবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পৌরসভার আওতাধীণ থাকা কালীন ছিলো লাইটিংয়ের ব্যবস্থা কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসার পর সেই সুবিধা থেকেও বঞ্চিত এলাকাবাসী।

চলাচলের সু-ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে চলাচলরত পথচারীরা। রাজবাড়ি এলাকায় নেই কোন লাইটিংয়ের ব্যবস্থা। কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লাইটের সেট থাকলেও সেটি অচল বলে জানান এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে বীরমুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন জালু প্রতিবেদককে জানান, দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে জান বাজী রেখে যুদ্ধ করে স্বাধীণ বাংলাদেশ পেলেও মনে হচ্ছে এখনও পরাধীণই রয়ে গেছি। রাস্তার অবস্থার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আমি এখন কথা বলছি রাজবাড়ী ভগ্ন রাস্তার উপর বালুর বস্তা ফালানো সেই বস্তার উপর দাড়িয়ে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রথম নির্বাচনের সময় নিজের পকেট থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছি আর এই নির্বাচনে কত টাকা খরচ করেছি তার হিসেব নেই। অথচ মেয়র ও কাউন্সিলরের কাছে আমার এলাকার রাস্তাটির কথা বলতে বলতে আমি নিজেই হাপিয়ে উঠেছি তাই আর রাস্তার বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। যে দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা তরাম্বিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সেখানে রাজবাড়ীর রাস্তাটি দেখলে দুঃথ লাগে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে এ রাস্তাটির দ্রুত সংস্কার দাবী করছি।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ি পঞ্চায়েত কমিটির প্রচার সম্পাদক মামুন হোসেন বলেন, দীর্ঘ দিন অবহেলিত থেকে দ্বিতীয় নির্বাচনের আগে ড্রেনসহ রাস্তার কাজ ধরায় একটু খুশি হয়েছিলাম কিন্তু সেই খুশি বেশি দিন রইল না। কচ্ছপ গতিতে কাজ করে তিন বছর পার করলেও ড্রেনের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি। রাস্তার কাজ কবে হবে তা জনপ্রতিনিধিও জানেনা। এখন পুরো কাজই বন্ধ রয়েছে। কাজ অর্ধেক হয়ে বন্ধ হবার ফলে চলাচলের চরম ব্যাঘাত ঘটছে। এইতো কিছু দিন আগে আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়ার সময় এ জরাজীর্ণ রাস্তা উপড় দিয়ে কোলে করে নিতে হলো। এ দূর্ভোগের শেষ কোথায়? কে দিবে আশার আলো।

নাসিক ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহাম্মেদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, রাজবাড়ি এলাকার ড্রেনসহ রাস্তার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়ে ছিলো কিন্তু রচি এন্টারপ্রাইজের কনট্রাক্টর শাহিনের গাফলতির কারনে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। এই কাজটি শেষ করার জন্য নতুন করে অনুদান পাশ করা হচ্ছে। তাই দেরি হচ্ছে। তবে আমি এলাবাসীকে একটু ধৈর্য্য ধরতে বলেছি। কেননা,সবুরে মেওয়া পাওয়া যায়।