শামীম ওসমানের ক্যারিশম্যাটিক বক্তব্যে রাস্তা ছাড়লো শিক্ষার্থীরা

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:   অবশেষে রাস্তায় এলেন এমপি শামীম ওসমান। তার ক্যারিশম্যাটিক বক্তব্য শান্ত করে দিল বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের। রোববার পর্যন্ত সময় দিলেন প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের মনমত ট্র্যাফিক ব্যবস্থা চালু করে অনিয়ম দুর করার জন্যে।

শুক্রবার জুম্মার পরে চাষাঢ়া মোড়ে খাঁজা সুপার মার্কেটের সামনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি মোটিভেশনাল বক্তব্য দিয়ে তাদের বাড়ী ফেরার পথ করে দেন। এ সময় লাইসেন্সবিহীনগাড়ীর জব্দ করা চাবিগুলো  শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ে সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলামের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

এভাবেই ৩দিনের  অশান্ত নারায়ণগঞ্জকে ১৫ মিনিটের বক্তব্যে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসলেন এমপি শামীম ওসমান।খুশী মনে বাড়ি ফিরে গেল রাস্তায় থাকা শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমাজকে একটা ধাক্কা দেয়ার দরকার ছিল তোমরা ধাক্কা দিয়েছো। বাকীটা প্রশাসন করবে। তোমরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছো কিভাবে ট্রাফিকগিরি করতে হয়। শুক্রবার (৩ আগস্ট) জুম্মার পর শহরের চাষাড়ায় খাজা সুপার মার্কেটের সামনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, লাইসেন্স নাই, চাবি আটকিয়েছো, এটা ভালো করেছো। চাবিগুলো আমার কাছে দাও। তখন অর্ক নামে এক ছাত্র জব্দ করা চাবির ছড়া শামীম ওসমানের হাতে তুলে দেয়। নারায়ণগঞ্জ মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসলে শামীম ওসমান অর্কের হাতে চাবি তুলে দিয়ে বলেন, এ চাবি ছাত্রদের পক্ষ থেকে সদর থানার ওসিকে বুঝিয়ে দাও,এগুলো তার কাছে থাকবে। সেখান থেকে গাড়ি মালিকরা তাদের কাগজপত্র দেখিয়ে চাবি সংগ্রহ করবে।

শামীম ওসমান আরো বলেন, শিক্ষার্থীর গত ৫দিন যেভাবে আন্দোলন করে রাস্তায় ট্রাাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করেছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে প্রশাসনকে। আমি নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনকে নির্দেশ দিচ্ছি আপনারা আজ থেকে সার্বিক ব্যবস্থা নিবেন। যেখানে সেখানে গাড়ি থেমে থাকবে না। কাগজপত্র ছাড়া এবং লাইসেন্স বিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। আমার জেলায় কোন অনিয়ম থাকবে না। কোমলমতি ছাত্রদের পিতা হিসেবে আজ আমি তাদের বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করেছি। তারা বাড়ি ফিরে যাবে। কিন্তু রোববারের মধ্যে যদি আপনারা ওদের মত রাস্তা সুশৃঙ্খল করতে না পারেন তাহলে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাঠে নামবো। আমিও তাদের সঙ্গে রাস্তায় উপস্থিত থাকবো।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা সকলে মিলে একটা সিদ্ধান্ত নেও শহরের কোন কোন স্থানে ফুটওভার ব্রিজ, স্পিড ব্রেকার প্রয়োজন। আর কি কি প্রয়োজন সেসব তোমরা তোলারাম কলেজ, মহিলা কলেজ ও অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা মিলে তালিকা করো তারপর সোমবার তা জমা দাও। আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখো। তোমরা বাড়ি যাও। মা-বাবার কাছ থেকে দোয়া নাও। এসময় তিনি আন্দোলন শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যাবার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকার কুর্মিটোলায় বাস চাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর জন্য উপস্থিত সকলকে নিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। এরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
দিকে এমপি শামীম ওসমান বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। আজই ফিরে এসেছি। ফিরে এসে দেখি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে। অবর্ননীয় কষ্ট করছে তারা। তাদের এ অবস্থা দেখে একজন পিতা হিসেবে আমি কষ্ট পেয়েছি। যা করার কথা প্রশাসনের তা তারা করছে। তাই ওদের প্রতি সহানুভুতি ও ভালবাসার অনুভুতি থেকে প্রশাসনকে ছাত্রদের মত করে শৃঙ্খলা বজায় রাখায় নির্দেশ দিয়েছি।