সরকারী কর্তার উদাসীনতায় ভার্সিটি ছাত্রীর স্মার্টকার্ড বখাটের হাতে !

 আজকের নারায়নগঞ্জ:  জাতীয় পরিচয় পত্র স্মার্ট কার্ড নিয়ে মাসদাইর শেরে বাংলা রোড এলাকায় ঘটেছে তুলকালাম কান্ড। ভার্সিটি ছাত্রীকে উত্যাক্তকারী বখাটের হাতে চলে গেছে ছাত্রীর জাতীয় পরিচয় পত্র স্মার্ট কার্ড।

তবে ছাত্রীর টোকেন ও ভোটার আইডি নাম্বার ঐ ছাত্রীর কাছে থাকা সত্বেও ঐ বখাটে কিভাবে কেন্দ্র থেকে স্মার্ট কার্ডটি তার কব্জায় নিয়ে গেল এ নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ছাত্রীর পরিবারসহ স্থানীয়রা।

ছাত্রীর পরিবারের দাবী বখাটে তুষার স্মার্ট কার্ডের বীপরীতে ৫ হাজার টাকা দাবীসহ মেয়েটিকে উত্যাক্ত করছে প্রতিনিয়ত।

দেশে জাতীয় পরিচয় পত্র নিতে সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছে ভোটররা। স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনে দাড়িয়ে টোকেন নিতে হয় ভোটরদের।

এরপর দিতে হয় ফিঙ্গার প্রিন্ট ও আই কন্ট্রাক্ট। কিন্তু এসবের কোন ঝামেলা ছাড়াই মাসদাইর এলাকার শাহজানের ছেলে তুষার ওই ছাত্রীর স্মার্ট কার্ডটি নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছে।

ছাত্রীর পরিবার জানায়, প্রায় সময় ছাত্রীটি কলেজে আসা যাওয়ার সময় তুষার তাকে উত্যাক্ত করতো। বিষয়টি পরিবারের লোকজনদের জাননোর পর,তুষারকে তারা ছাত্রীকে উত্যাক্ত করতে নিষেধ করে।

গত ২৯ জুলাই গভমেন্ট গার্লস স্কুলে ছাত্রী স্মার্ট কার্ডের জন্য লাইনে দাড়ায়। কিন্তু কার্ড বিতরনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যাক্তিরা তাকে জানায়,১ আগষ্ট কার্ড দেয়া হবে। তার কার্ড আসেনি। ছাত্রীটি টোকেন নিয়ে তার বাসায় চলে যায়।

একই দিন সন্ধ্যায় বখাটে তুষার ঐ ছাত্রীর স্মার্ট কার্ডের একটি ছবি হোয়াট্স এ্যাপে পাঠায়। এসময় তুষার স্মার্ট কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা চায়। কিন্তু ছাত্রী তুষারের কথার কোন উত্তর দেয়নি। কারণ তার কাছে রয়েছে টোকেন । টোকেন ছাড়া কেউ কারো কার্ড নিতে পারবে না বলে বিশ্বাস ছিল ছাত্রীটির।

বুধবার গভমেন্ট গার্লস স্কুলে গিয়ে তার স্মার্ট কার্ডের জন্য লাইনে দাড়ায় মেয়েটি। তাকে কেন্দ্র তেকে বলা হয় তার স্মার্ট র্ক্ডা আসেনি। এ ঘটনাটি ছাত্রী তার পরিবারকে জানায়। এব্যাপারে বুধবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

এরআগে, মঙ্গলবার রাতে ঐ ছাত্রীর বাড়িতে তুষার ও বেশ কয়েকজন ঢিল ছুড়ে। এঘটনায় ছাত্রীর বড় ভাই বাদী হয়ে একই দিন রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোমেন বলেন, কারো জাতীয় পরিচয় পত্র অন্য কেউ বহন করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। যে ঘটনা ঘটেছে তা ঘটার কথা নয়। কিভাবে একজনের কার্ড অন্যজনের হস্তগত হল এ বিষয়ে তদন্ত করে বলা যাবে।

এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মুজিবুর রহমান বলেন, বাদী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এরআগে গত মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত তুষারের বিরুদ্ধে ছাত্রীর বড় ভাই বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রঃ যুগের চিন্তা