শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা’ গালি দিয়ে তোপের মুখে গোপিনাথ

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীেদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়ে তোপের মুখে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হলো মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোপিনাথ দাস। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিতর্কিত আলোচনা-সমালোচনায় সময় কাটছে গোপিনাথের। এর মধ্যে বুধবার দুপুরে চাষাঢ়ায় তোপের মুখে পড়েন তিনি।

প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশসহ স্থানীয় আওয়ামীলগি নেতারা এলে  গোপীনাথকে ছেড়ে দেওয়া হয়।পরে গোপীনাথ নিজের ভূল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করে  দ্রুত সটকে পড়েন।
ঘটনার  যেভাবে ঘটলো, রাজধানী দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার সকাল ১০টা হতেই নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ, কমার্স কলেজ, মডেল কলেজ সহ বেশ কয়েকটি কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা দলে দলে চাষাঢ়া মোড়ে এসে অবস্থান নেয়।

শহরের চাষাঢ়া গোল চত্ত্বরে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ ও চাষাঢ়া-আদমজী-শিমরাইল সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আটকে দেওয়া হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ট্রেন। এমনকি পুলিশের গাড়িও থামিয়ে দেওয়া হয়। তাদের গাড়ি থেকে নেমে ডিউটি পালন করতে বাধ্য করা

দুপুর ২টায় আন্দোলন চলাকালে চাষাঢ়া রাইফেলস ক্লাবের সামনে রিকশায় করে আসার সময়ে অবরোধ ভেদ করে তিনি যাওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে গোপিনাথ  শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেন এবং বলতে থাকেন রাজাকারের বাচ্চারা তোরা মরে যা।

সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও শুরু করেন। পরে সকল শিক্ষার্থীরা তাকে মারতে উদ্যত হয় এবং তেড়ে গেলে জিয়া হলের পাশের সুগন্ধা ফাস্ট ফুডে আশ্রয় নেয়।
তাকে  বের করে আনতে এসময়  বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। তাকে জুতা চোর, ভুয়া সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে তাদের হাতে তাকে তুলে দিয়ে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা স্লোগান ধরেন উই ওয়ান্ট জাস্টিস
পরে শিক্ষার্থীদের আবারো ধমক দিয়ে গোপীনাথ বলেন, আমিই জাস্টিস তোরা আবার কিসের জাস্টিস খুজস।

তার এ কথায় আবারো উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাকে মারতে গেলে তিনি প্রথমে একটি ফার্মেসী ও পরে ল্যাব এইড হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্ষা করে।