উল্টোপথে মন্ত্রী আর লাইসেন্সবিহীন পুলিশকর্তাকে আটকে দিল শিক্ষার্থীরা

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:  উল্টো পথে  প্রভাবশালী মন্ত্রী আর লাইসেন্সবিহীন বাইক চালক  দাপুটে পুলিশকর্তাকে আটকে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দিলো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিকেল চারটায় ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরী এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় ঘটনা আর মন্ত্রীর ঘটনা ঘটনা দুপুরে বাংলামোটর সংলগ্ন এলাকায়। অবস্থা বেগতিক বুঝে কোন উপায়ন্তর না দেখে পেছনে হটতে বাধ্য হয় তারা।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা  সেখানে উপস্থিত গনমাধ্যমকর্মীদের  জানায়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে  ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরী এলাকায় অবস্থান নিয়ে  সকাল থেকেই আমরা প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স চেক করেছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই যেতে দেইনি। পুলিশের একটি বাইক যেতে চাইলে আমরা লাইসেন্স চাই। তারা দেখাতে ব্যর্থ হয় এবং বাইকের পেছনের আরোহীর হেলমেট না থাকায় তাদের গন্তব্যস্থলে যেতে না দিয়ে ফিরতি পথে পাঠিয়ে দেই।

এ সময় বৃষ্টিতে আটকে পড়া কয়েকশ’ মানুষ প্রিয়াঙ্গন শপিং মল থেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিল। শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাইক ফিরতি পথে পাঠিয়ে দিলে সাধারণ জনতা করতালি দিয়ে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত করে।

অপরদিকে সকাল ১১টা থেকে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে মিরপুর রোডটি শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ করে রাখলেও বিকেল চারটার একটু পর তারা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ায়। বর্তমানে ধানমন্ডির মিরপুর সড়কে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল করছে।

অপরদিকে আইন অমান্য করে উল্টোপথে বাংলামোটর যাবার পথে বাণিজ্যমন্ত্রীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে প্রটেকশনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা গাড়ি ছেড়ে দেবার অনুরোধ করলেও শিক্ষার্থীরা ছাড়েনি। বুধবার দুপুর পৌনে দুটোর সময় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা শিক্ষার্থীরা জানান, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গাড়ি শাহবাগ থেকে উল্টোপথে বাংলামোটর এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল।  উল্টোপথে গাড়ি দেখে শিক্ষার্থীরা পথ আটকে দাড়ায়।
এসময় তোফায়েল আহমেদ গাড়ি থেকে নেমে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের গাড়িটি ছেড়ে দেবার অনুরোধ করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তখন স্লোগান দিতে থাকে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ‘রাস্তা ভরে লাশে, মন্ত্রী কেন হাসে’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।

এ সময় পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের বারবার অনুরোধ করলেও শিক্ষার্থীরা বারবার ‘আইন সবার জন্য সমান’ স্লোগান দিতে থাকে এবং গাড়ির সামনে বসে পড়ে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়ি আবার শাহবাগে ফিরে যায়।

এ বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ছাত্ররা আমাকে আটকায়নি। আমি নিজেই গাড়ি থেকে নেমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি।’