ফতুল্ল থেকে জেএমবি’র এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:  নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে জেএমবি’র এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। গ্রেফতারকৃতের নাম কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমান (৩৫)। সে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে পঞ্চবটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে র‌্যাব-১১’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও সিনিয়র এএসপি আলেপ উদ্দিন এ তথ্য জানান।
র‌্যাব-১১’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও সিনিয়র এএসপি আলেপ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমান ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলা মামলার অন্যতম আসামী। সে ২০০৫ সালের ১৭ই আগষ্ট নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বোমা-বিষ্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদে স্বীকার করেছে। ওই ঘটনায় সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ইসলামী আইন বাস্তবায়নের আহ্বান শিরোনামে ২২টি ছাপানো লিফলেট বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জেএমবি’র আত্নপ্রকাশ করে। ওই ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা দায়েরের পর গ্রেফতারকৃত ১১ জন ও পলাতক ৫ জন জেএমবি আসামীদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে শায়েখ মাওলানা আঃ রহমান-জেএমবি’র প্রতিষ্ঠাতা আমির ও প্রধান, আতাউর রহমান সানি-জেএমবি’র সামরিক কমান্ডার ও শুরা সদস্য, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই জেএমবি’র আঞ্চলিক প্রধান ও অন্যতম শুরা সদস্য। তাদের অন্য মামলায় আদালত কর্তৃক বিচারে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে কেফায়েতুর রহমান আরো জানান, তৎকালীন জেএমবি’র প্রধান শায়েখ মাওলানা আঃ রহমানের নির্দেশে তার অন্যান্য সহযোগীদের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বোমা হামলায় অংশ নেয়। জেএমবি’র প্রধান শায়েখ মাওলানা আঃ রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি সহ গ্রেফতারকৃত ও পলাতক জেএমবি’র অন্যান্যদের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তার জন্ম চট্টগ্রামের সন্দীপে হলেও ৭ বছর বয়সে বাবার সাথে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কোতয়ালের বাগ এলাকার এসে বসবাস শুরু করে। তার বাবা মাওলানা মাহবুবুর রহমান নারায়ণগঞ্জের একটি মসজিদের ঈমাম ছিলেন।
১৯৯৩ সালে ফতুল্লার কুতুবআইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে। পরে ২০০৩ সালে দেওভোগ জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম হতে দাওরায়ে হাদিস পাশ করার পর শাহ্ ফতুল্লা ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা হতে দাখিল পাশ করে।
দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার পর এলাকা ছেড়ে আত্নগোপন করে। ২০০৭ সালে নাম পরিবর্তন করে হোসাইন আহমেদ আজমী পরিচয়ে রাজশাহীর কাটাখালী থানা এলাকায় তার খালাত ভাইয়ের মাদরাসা জামিয়া উসমানিয়া হোসাইনাবাদ, বাখরাবাজে শিক্ষকতা শুরু করে। পরবর্তীতে বগুড়ায় বিয়ে করে স্ত্রীসহ মাদরাসার পাশে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে।