এই ডিসি কি সেই ডিসি ?

আনিসুজ্জামান অনুঃ সুখ্যাতির চূড়া থেকে নিমিষেই ধূলায় লুটিয়ে পড়া,এই ডিসি কি সেই ডিসি ? আজ  বড় একটি প্রশ্ন উঁকি দিলো বিবেকের জানালায়। হ্যা তাইতো উনিইতো কুড়িগ্রামের সেই জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে লিখা হতো উন্নয়নের সারথী।

উনিই সেই ডিসি সুলতানা যিনি ২০১৮ সনে ফেসবুকসহ গনমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি দুঃস্থ পরিবারের ছবি দেখে তাদের পাশে দাড়িয়েছিলেন। রাজধানীর কলাবাগানের রাস্তায় পড়ে থাকা সেই মহিলাকে নিয়ে কুড়িগ্রামে মাথাগোঁজার ঠাই করে দিলেন।

আর সাংবাদিকেরাইতো তার মহত্ত্বের সংবাদ পত্রিকায় পাতায় ছেপে দিয়ে তাকে মহিয়সি নারী বানিয়েছিলেন। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে ফুটপাতে তিন সন্তান আর অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবন-যাপন করা নিঃস্ব ফরিদার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন।

উনিইতো সেই ডিসি সুলতানা পারভীন যার আকস্মিক বদলীর আদেশ ঠেকাতে েএকাট্টা হয়েছিলেন কুড়িগ্রামবাসী। সাংবাদিকেরা সেই সংবাদ প্রকাশ করে লিখেছিল ‘অল্পদিনেই কুড়িগ্রামে বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্য দিয়ে তিনি সবার মন জয় করেন। হঠাৎ করে তার বদলির আদেশে প্রতিবাদে ফেটে পরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। আদেশ প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন কর্মসূচি দেয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।

আরো লিখেছিল সুলতানা পারভীনের বদলীর আদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় সেদিনে মিষ্টি বিতরনের কথা।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু জানিয়েছিলেন, সদাশয় সরকার কুড়িগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে যোগ্য ব্যক্তিকে পুনর্বহাল করেছে। এতে কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

কুড়িগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু বলেছিলেন, একমাত্র ডিসি যিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে কুড়িগ্রামের ডিসি হিসেবে স্বপদে বহাল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

এবারের ঈদ নিয়েও যখন জাতি দ্বিধাদ্বন্ধে ছিল সেই ডিসি সুলতানা পারভীনের চাঁদ দেখার তথ্যের ভিত্তিতেই দিনের দিন নির্ধারিত হলো।

অথচ সেই সুলতানা পারভীন আজ অহমিকায় ভোগলেন,রেগে গেলেন,ক্রোধ সংবরন করতে পারলেন না। সামান্য সমলোচনা আত্মস্থ করতে সক্ষম হলেন না। ক্ষমতার বড়াই করে দেখিয়ে ফেললেন। একজন সাংবাদিক জাতির বিবেককে শায়েস্তা করতে নিজের অধীনস্ত ৩জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে দলবল পাঠিয়ে দরজা ভেঙ্গে টেনেহেচড়ে তার কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন করলেন।

ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপব্যাবহার করে মধ্যরাতে নিয়মনীতি লংঘন করে মাত্র আধা লিটার মদ ও আর গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে ঢুকিয়ে দিলেন কারাগারে। হায়রে ক্ষমতা!

সাংবাদিক নির্যাতন,হেয় করার অপরাধে আর ক্ষমতার অপব্যাবহারের দায়ে  আমি অবশ্যই আজ আপনার অপসারনসহ শাস্তি দাবী করছি।